নজরবন্দি ব্যুরোঃ মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ, সেই নিয়েই মামলা মোকদ্দমা। নন্দীগ্রাম কার তার বিচার চলছে এখনো। সেই মামলাতেই এবার বদলালো বিচারপতির বেঞ্চ। এককালীন দলনেত্রী আর সেনাপতির অবস্থান আপাতত পরস্পর বিরোধী। রাজনৈতিক দিক থেকেও দুই দলের মুখ দুজনে। একজন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অপর জন বিজেপি বিধায়ক, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুনঃ করোনা কালেও ভিড় বাড়ছে দিঘায়, বাড়ছে সংক্রমণ, পর্যটনে একগুচ্ছ নিয়ম জারি প্রশাসনের
ডিসেম্বরে শুভেন্দুর দলত্যাগের পর থেকেই একে অপরের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছেন। ভোটেও লড়েছেন একে অপরের বিপক্ষে। শুভেন্দুর সঙ্গে সমুখ সমরে লড়তেই ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর সেখানেই শুরু বিরোধের। ভোটের গণনায় প্রথম বার মমতাকে জয়ী ঘোষণা করলেও, শুভেন্দুর আর্জিতে ফের গনণা চলে নন্দীগ্রামে।
মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ, নন্দীগ্রাম কার সেই বিচার হবে শম্পা সরকারের এজলাসে।

আর শেষমেশ তাতে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ, ভোটে হেরেও মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরেই নন্দীগ্রামের ফলাফল পুনর্গণনার দাবি নিয়ে মামলা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। মামলার বিচারপতির বিজেপি যোগ নিয়ে শুরু হয় শোরগোল। বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাস থেকে নন্দীগ্রাম মামলা সরানোর আর্জি নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী।
মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ, মমতার আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি প্রথম থেকেই বারবার বিচারপতির বিজেপি যোগ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, আর সেই কারণেই আর্জি জানানো হয়েছিল মামলা অন্য বেঞ্চে স্থানান্তিকরণের। নিজেদের যুক্তির স্বপক্ষে ১৩ পয়েন্ট সাজিয়ে নিজেদের বক্তব্য সামনে রাখে তৃণমূল। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম আইনজীবী সঞ্জয় বসু হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছিলেন মামলা অন্য বিচারপতির এজলাসে স্থানাতরিত করার জন্য।
কৌশিক চন্দের বিজেপি যোগের কথা তুলে এনে মামলার রায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এই ঘটনায় রায় দেওয়ার আগেই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন কৌশিক চন্দ। নিয়মমাফিক এরপর মামলা কোন বেঞ্চে যাবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি বিন্দলের। আজ জানানো হয়েছে এবার বিচারপতি শম্পা সরকারের এজলাসে সরল নন্দীগ্রাম মামলা।








