নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে এখন চাপা অস্বস্তি। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তফার পর আসন্ন উপনির্বাচন, অন্যদিকে প্রার্থী খুঁজতেই কার্যত বেকায়দায় ঘাসফুল শিবির। পবিত্র করের পর শেখ সুফিয়ানও প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ভবানীপুরের আসন রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে খুব শিগগিরই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই ভোটের মুখে এখনও পর্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি তৃণমূল।


দলীয় সূত্রে খবর, প্রথমে নন্দীগ্রামের পরিচিত মুখ পবিত্র করকে প্রার্থী করার ভাবনা ছিল তৃণমূল নেতৃত্বের। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। উপনির্বাচনে লড়তে তিনি স্পষ্ট অনীহা প্রকাশ করেছেন।
এরপর তৃণমূল নেতৃত্ব যোগাযোগ করে শেখ সুফিয়ানের সঙ্গে। নন্দীগ্রামে একসময় তৃণমূলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সুফিয়ান। তাঁর বাড়িতে গিয়ে দোলা সেন-সহ একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেন বলেও সূত্রের দাবি।
কিন্তু সেই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন সুফিয়ান। শুধু তাই নয়, দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে লাগাতার সরব হওয়ার জন্য তাঁদের ব্যবহার করা হলেও পরে আর খোঁজ নেয়নি দল।


সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, একসময় যাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ শানাতেন, সেই শুভেন্দু অধিকারীকেই এবার প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন সুফিয়ান। তাঁর দাবি, শুভেন্দুর মধ্যে সফল মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে এবং নন্দীগ্রামের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
সুফিয়ানের কথায়, “শুভেন্দু অধিকারীর সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে। নন্দীগ্রামের জন্য উনি অনেক কিছু করতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে এই পরিস্থিতি তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে। একসময় যে এলাকায় তৃণমূলের জমি শক্ত ছিল, সেই নন্দীগ্রামেই এখন প্রার্থী খুঁজতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দলকে।
২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন শেখ সুফিয়ান। যদিও তিনি পরাজিত হন। পরে জেলা পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান তিনি। ফলে তাঁর মতো নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষ এবং শুভেন্দু প্রশংসা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্দরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা এখন আর গোপন নেই। প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে জটিলতা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



