নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবার বাস্তবের পথে। বহুদিনের দাবির নন্দীগ্রাম-হলদিয়া ব্রিজ নির্মাণে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়ে গেল জোরকদমে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম সফরের আগেই হলদি নদীর ধারে সম্ভাব্য সেতু প্রকল্পের জায়গা পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।
পূর্ব মেদিনীপুরের দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলতে বহু প্রতীক্ষিত এই নন্দীগ্রাম-হলদিয়া ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মানুষের দাবি ছিল। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে এই সেতু নির্মাণ অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল। ভোটের প্রচারে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকারে এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।


শনিবার সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব রূপ দেখা গেল। হলদি নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্য জায়গা ঘুরে দেখেন হলদিয়ার মহকুমাশাসক, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আধিকারিক, ভূমি ও রাজস্ব দফতরের কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে সেতুর সম্ভাব্য রুট, জমির অবস্থা এবং সংযোগ রাস্তার পরিকাঠামো নিয়ে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার মধ্যে নদীপথের কারণে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগে। এই ব্রিজ তৈরি হলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শিল্পাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই প্রকল্প যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের আগে তৃণমূলও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তৃণমূল প্রার্থী জিতলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর শিলান্যাস হবে। কিন্তু নির্বাচনের ফল বদলে যাওয়ার পর সেই দায়িত্ব এখন বিজেপি সরকারের কাঁধে।


শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনে জয়ী হলেও নিয়ম অনুযায়ী পরে আসনটি ছেড়ে দেন। সেখানে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। তার মধ্যেই সেতু প্রকল্প ঘিরে প্রশাসনিক সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রবিবার প্রথমবার নন্দীগ্রামে জনসভা করবেন শুভেন্দু। সেই সভাকে ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। পদ্ম আকৃতির সাজে তৈরি হয়েছে সভামঞ্চ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সভা থেকেই নন্দীগ্রাম-হলদিয়া ব্রিজ নিয়ে বড় ঘোষণা আসতে পারে। ফলে এখন স্থানীয়দের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার দিকেই।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



