পেট্রল-ডিজেলের টানা মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। গত ১০ দিনের মধ্যে একাধিক দফায় জ্বালানির দাম বাড়ার পর এবার কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ভোট মিটতেই সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় রাহুল গান্ধী দাবি করেন, তিনি আগেই অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী ব্যস্ততার পরেই জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়ছে।
রাহুল তাঁর পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে কটাক্ষ করে লেখেন, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বিভিন্ন শহরে পেট্রল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত কয়েক দফায় দামের বৃদ্ধির জেরে কলকাতায় পেট্রলের দাম ১১৩ টাকার গণ্ডি পার করেছে এবং ডিজেলও প্রায় ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সরকারি ও বাজার মহলের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের উপর চাপ বেড়েছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু পরিবহণেই সীমাবদ্ধ থাকে না। খাদ্যপণ্য, দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্য এবং পরিষেবা খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
রাজনৈতিক তরজা যতই বাড়ুক, সাধারণ মানুষের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— আগামী দিনে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হবে, নাকি আরও চাপ বাড়বে।



