অবশেষে পদক্ষেপ নিল পুলিশ। নাগরাকাটা হামলায় ৫৪ ঘণ্টা পর গ্রেফতার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে। গত সোমবার দুপুরে উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ হঠাৎই হামলার মুখে পড়েন। ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক মহল।
প্রায় দুই দিন কেটে গেলেও কোনো গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। অবশেষে বুধবার রাতে পুলিশ দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, এই দুজন হামলার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের চিহ্নিত করা গিয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, বাকি ছয়জন অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। সোমবারের ঘটনার পর মোট আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা মুখে কাপড় বেঁধে ছিল এবং পরিকল্পিতভাবেই আক্রমণ চালানো হয়।
বর্তমানে সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ দুজনেই চিকিৎসাধীন। শঙ্কর ঘোষকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও খগেন মুর্মুর অবস্থা কিছুটা জটিল। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর চোখের নীচের হাড়ে চিড় ধরেছে। মঙ্গলবার তাঁকে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরদিন বুধবার গিয়ে দেখা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও।
একজন সাংসদের উপর হামলা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশের এমন বিলম্বে পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রাজ্য সরকারের কাছে এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, হামলার পর এত সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হল না?


বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতির কারণেই অভিযুক্তরা পালাতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, এখন রাজ্যের মূল ফোকাস হওয়া উচিত বন্যা ও বিপর্যয় মোকাবিলা। তাই গ্রেফতারি অভিযান কিছুটা সময় নিচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বন্যাত্রাণই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রেফতার হবে, তবে আইনি প্রক্রিয়া মেনেই।”
এই ঘটনার জেরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও ফের প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “নাগরাকাটা হামলা” শুধু স্থানীয় ইস্যু নয়, এটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তারা প্রতিবাদ আন্দোলনে নামবে।
এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করতে পারে কি না পুলিশ। আপাতত নাগরাকাটা হামলার তদন্তে নতুন গতি আসায় রাজনৈতিক চাপ কিছুটা কমেছে প্রশাসনের উপর, তবে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—কেন এই দেরি?







