রাষ্ট্রপতির শাসন উঠলেও থামেনি অশান্তি, উখরুলে নাগা–কুকি সংঘর্ষে ফের উতপ্ত মণিপুর

সরকার গঠনের পরও থামেনি মণিপুরের উত্তেজনা। উখরুলে নাগা–কুকি সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ, জারি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, পরিস্থিতি সামলাতে মোতায়েন অতিরিক্ত বাহিনী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা ছিল, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ফের জাতিগত সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মণিপুরের উখরুল জেলা। নাগা ও কুকি দুই জনজাতির মধ্যে হিংসার জেরে একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার রাতের উত্তেজনার পর সোমবার সকালেও পরিস্থিতি থমথমে, এলাকায় জারি হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা।

রবিবার সন্ধ্যায় নাগা ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। জানা গিয়েছে, নাগা সম্প্রদায়ের এক যুবকের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরেই উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, কুকি গোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহীরাই ওই হামলা চালায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উখরুল জেলার লিটন গ্রামে দ্রুত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সংঘর্ষের মধ্যে একাধিকবার গুলির শব্দও শোনা যায়।

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সন্ধ্যার পর রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয় প্রশাসন। উখরুল জেলা প্রশাসন নির্দেশিকা জারি করে জানায়, অশান্তিপ্রবণ এলাকায় কেউ নিজ নিজ এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

তবে উত্তেজনা থামেনি। রবিবার মধ্যরাতে ফের অশান্তি ছড়ায়। অভিযোগ, নাগা সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কুকি সম্প্রদায়েরও কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সকালেও পরিস্থিতি অস্থির। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, রাতের অশান্তির কিছু ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেগুলির সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি। ভিডিয়োগুলিতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের বাড়ি ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিতে এবং শূন্যে গুলি চালাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন