নাড্ডা-অমিতের বাংলা সফর অনেকটা “পরিযায়ী পাখির মত”, মন্তব্য সৌগতর।

নাড্ডা-অমিতের বাংলা সফর অনেকটা “পরিযায়ী পাখির মত”, মন্তব্য সৌগতর।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নাড্ডা-অমিতের বাংলা সফর অনেকটা “পরিযায়ী পাখির মত”, ২১-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসকদল ও বিরোধী পক্ষের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। চলতি মাসের গোঁড়াতেই অমিত শাহের মত হেভিওয়েট বিজেপি নেতা জেলা সফরে এসে ভোটের ডঙ্কা বাজিয়ে গেছেন। আবার সেই একই জায়গা অর্থাৎ বাঁকুড়ায় রবিবার পৌছেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২ দিনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। লড়াই চলছে সেয়ানে সেয়ানে।

আরও পড়ুনঃ আবারও ভারতে চালু হচ্ছে মোবাইল গেম পাবজি!

বিহারের পর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য এখন বাংলার দিকে। যেনতেন প্রকারে তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি শাসিত বাংলা করতে আশাবাদী বিজেপি। তাই পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি। চলতি মাসে আবারও আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে খবর। পাশাপাশি আগামী মাসেই সভা করবেন জে পি নাড্ডাও। এবার বিজেপির এই দুই শীর্ষনেতার বঙ্গ সফরকেই কটাক্ষ হানলো তৃণমূল। মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে সাংসদ সৌগত রায় সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র কটাক্ষ করেন শাহ ও নাড্ডাকে।

আগামী মাসের ৮-৯ তারিখ বাংলায় ২দিনের সফরে আসছেন নাড্ডা বলে জানা গেছে। জেলাতে সাংগঠনিক বৈঠকের পাশাপাশি কলকাতায় হতে পারে জেপি নাড্ডার একটি সভা। যদিও তাঁর সফরসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চলতি মাসে জেপি নাড্ডার নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন উত্তরকন্যা অভিযানের কথাও ছিল। তবে পরে সেই সফর বাতিল হয়ে যায়। পরিবর্তে রাজ্যে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে ২০০টি আসনের টার্গেটও বেঁধে দেন তিনি। এবার ৮ ও ৯ ডিসেম্বর জেপি নাড্ডার রাজ্য সফরের কথা শোনা যাচ্ছে।

নাড্ডা-অমিতের বাংলা সফর অনেকটা “পরিযায়ী পাখির মত”, এদিন সেই নাড্ডার সফরকে কটাক্ষ হেনে সৌগত রায় বলেন, ‘হিমাচলের মত ছোট রাজ্য থেকে এসেছেন জে পি নাড্ডা। যেখানে মাত্র ৪টে লোকসভা আসন। উনি পরামর্শ দেবেন বাংলা নিয়ে, যেখানে ৪২টা আসন। বাংলাটা বুঝুন আগে। এখনকার সমস্যা কী জানুন। পরিযায়ী পাখিদের মতো বেড়াতে এসেছেন।’ এরপরই সৌগতের নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁকে একহাত নিয়ে সৌগত বলেন, ‘ভেবেছিলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অমিত শাহ এখানে এসে বিএসএফ নিয়ে খবর নেবেন। গরু পাচার রোখা যাচ্ছে কি না খোঁজ করবেন। রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বলবেন।

নেপালে ভারত বিরোধী কিছু হচ্ছে কিনা তা জানতে চাইবেন। তা না করে বাঁকুড়ায় ভুল একটি মূর্তিতে মালা দিলেন। কলকাতায় আমার কেন্দ্রের পাশে এসে মতুয়া বাড়িতে খেলেন। এসব কি ওঁকে সাজে? বল্লভভাই প্যাটেল কি এসব করতেন?’ বস্তুত বিরসা মুন্ডা মূর্তি বিতর্কে যে জঙ্গলমহলের বুকে বিজেপি এতটা চাপে পড়ে যাবে সেটা গেরুয়া শিবিরেরে কার্যত কেউই বুঝতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখন বাঁকুড়া সফরে গিয়ে অমিত শাহকে নাম না করেই বার বার কটাক্ষ হানছেন তাঁর মধ্যাহ্নভোজের কর্মসূচি নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x