পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে বড় সাংবিধানিক পদক্ষেপ। বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতেই রাজ্যপাল আর এন রবি আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভা ভঙ্গের নির্দেশ জারি করলেন। ফলে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসনের আওতায় চলে গেল বাংলা। ভোটে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সাংবিধানিক নিয়মে মেয়াদ ফুরোতেই তাঁর সরকারের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেল।
বুধবার গভীর রাতে রাজভবনের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তৃতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সাংবিধানিক মেয়াদ ৭ মে শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুরনো বিধানসভার আর কোনও কার্যকারিতা থাকে না। নতুন সরকার গঠন এবং শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব কেন্দ্রের অধীনেই পরিচালিত হবে।


২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফল ঘোষণার পর থেকেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। গণনাকেন্দ্র থেকেই অভিযোগ ওঠে বিজেপি এজেন্টদের বিরুদ্ধে। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা দাবি করেন, “জনতা আমাদের হারায়নি, ভোট লুট করে হারানো হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন না।
রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হল, মমতার ক্ষমতা কেড়ে নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি

তবে সাংবিধানিক বাস্তবতা অন্য পথেই এগিয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সরকার চালানোর পর মেয়াদ শেষ হওয়ায় রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর ফলে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদে আর বহাল থাকলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিন পর এ রাজ্যে সরাসরি রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিস্থিতি তৈরি হল। যদিও এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নয় বলেই জানা যাচ্ছে। বিজেপির নতুন সরকার আগামী ৯ মে শপথ নিতে চলেছে।


রাজ্যে সরকার বদলের এই উত্তাল আবহে প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও ভোটের ফল এবং গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেই চলেছে।
বাংলার রাজনীতিতে এই মুহূর্তে নজর একটাই— রাষ্ট্রপতি শাসনের এই অন্তর্বর্তী পর্বের পর নতুন সরকার কীভাবে প্রশাসনের দায়িত্ব নেয় এবং বিরোধী শিবির কী কৌশল নেয় আগামী দিনে।







