‘দুয়ারে ত্রান’ প্রকল্পে দফতর অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নির্দেশিকা জারি নবান্নের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘দুয়ারে ত্রান’ প্রকল্পে দফতর অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নির্দেশিকা জারি নবান্নের। আমফানের ভুল আর চান না মুখ্যমন্ত্রী। চান না ত্রান বণ্টনে কোনরকম দুর্নীতি। একথা আগেই ঠারেঠারে সমস্ত সরকারি দফতরকে কড়া ভাষায় আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত দুদিনের মত আজ বন্যা পরিদর্শনে গিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ কলেজের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মমতা ফের জানিয়ে দিয়েছেন ত্রান নিয়ে কোন প্রকার বঞ্চনা সহ্য করবেন না তিনি। সকলে যেন ঠিক মতো ত্রাণ, খাবার, ওষুধ পান সেদিকে খ্যেয়ালের জন্য প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের জন্য বাড়ির কাছেই টীকাকরনের ব্যবস্থা কেন্দ্রের।

সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন গর্ভবতী ও প্রসূতিদের দিকে। আর তাই ত্রান বিলির কাজে দলের কাউকে নয় শুধুমাত্র প্রশাসনিক দফতরগুলিকে বহাল করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ত্রান বিলির জন্য ১০০০ কোটি টাকার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।  শুধু তাই নয়, এবার কোন বিভাগ কোন ত্রাণের দিকটি দেখাশোনা করবে এবং কোন খাতে কত করে ত্রাণ মিলবে, তার বিস্তারিত হিসেবও জানিয়ে দিল নবান্ন। কৃষি থেকে শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা পর্যন্ত কোন ক্ষেত্রে কত করে ত্রাণ ধার্য হয়েছে তা লিখে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে নবান্নের তরফে। সে নোটিসের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের। ৩ থেকে ১৮ ই জুন পর্যন্ত চলবে এই ত্রান বিলির কাজ।  গ্রামে গ্রামে ব্লক ক্যাম্প করবে সরকার। সেখানেই গিয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন জানাতে হবে। আগামী ১৯ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন খতিয়ে দেখা হবে।

১ জুলাই থেকে শুরু হবে টাকা দেওয়ার কাজ। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন দফতরকে কাজ বণ্টন করে তার তালিকাও প্রকাশ করেছে নবান্ন। এই তালিকা বা নির্দেশিকা অনুযায়ী শস্য নষ্ট হওয়ার খাতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা অন্তত ১০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা পাবেন। কৃষি দফতর এই ত্রাণবিষয়ক দেখাশোনা করবে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর পুরোপুরি বিধ্বস্ত এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতির দায়িত্ব নিয়েছে। একেবারে ভেঙে পড়া বাড়ি ঠিক করতে ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে  দুর্যোগে অনেকের গৃহপালিত পশু মারা গেছে। কিংবা জলের তোড়ে ভেসে গেছে। তাঁদের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর। মহিষ কিংবা গরুর ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং ছাগল, ভেড়া, শুয়োর মারা গেলে কিংবা ভেসে গেলে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে ভারবাহী পশু মহিষের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫ হাজার এবং বাছুরের জন্য ১৬ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পান চাষীদের জন্য থাকছে ৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ।

‘দুয়ারে ত্রান’ প্রকল্পে দফতর অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নির্দেশিকা জারি নবান্নের। মত্‍স্য দফতর জেলেদের পুরোপুরি ভেঙে যাওয়া নৌকো সারাতে ৫ হাজার টাকা, কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত নৌকো মেরামতিতে ৫০০ টাকা এবং জাল কেনা বাবদ ২ হাজার ৬০০ টাকা সাহায্য করবে। আমফানের সময় ওঠা প্রবল দুর্নীতি যাতে ফের না হয় তার জন্য সবদিক থেকে করাভাবে ত্রান বিলির ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন