শনিবার রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল হয়ে ওঠে নবান্ন অভিযান ঘিরে। আরজি কর নির্যাতিতা কাণ্ডে নির্যাতিতার মা-বাবার আহ্বানে কর্মসূচি হলেও, বাস্তবে তা পরিণত হয় বিজেপির আন্দোলনে। সকাল থেকে ধর্মতলা, শিয়ালদহ ও সাঁতরাগাছি হয়ে নবান্নমুখী রাস্তাগুলিতে বিশাল পুলিশি প্রাচীর গড়ে ওঠে। পুলিশের ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা মিছিলের চেষ্টা চালান।
সাঁতরাগাছিতে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন কর্মীরা। শিয়ালদহ থেকে বড় জমায়েত না হলেও হাওড়া ব্রিজের মুখে বিক্ষিপ্ত ভিড় জমে। তবে সবচেয়ে বড় মিছিল জমায়েত হয় ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে। সেখান থেকে একাংশ অবস্থান নেয়, অন্য অংশ হেস্টিংসের দিকে এগোয়, যেখানে থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর মাধ্যমে নবান্নে পৌঁছনোর চেষ্টা ছিল।


মিছিলে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক দিন্দা, জোয়েল মুর্মু-সহ একাধিক নেতা। ব্যারিকেড পেরোতে গিয়ে তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। সেই সময় নির্যাতিতার মা জখম হন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের লাঠির আঘাতেই কপালে চোট লাগে এবং হাতের শাঁখা ভেঙে যায়। তবে পুলিশ দাবি করে, তিনি হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিলেন।
নবান্ন অভিযানে ব্যাপক ধুন্ধুমার, অনেক চেষ্টা করেও তেমন ফল পেলনা বিজেপি

প্রায় জনা ত্রিশেক আন্দোলনকারী একবার ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে সক্ষম হলেও শুভেন্দু ও অন্য নেতারা আটকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় হুগলি সেতুর র্যাম্পে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের পথ রুদ্ধ হয়। ব্যর্থ হয়ে ব্যারিকেডের উপর দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ স্লোগান দেন এবং পরে অবস্থানে বসেন।
অবস্থানে বসে থাকা অবস্থায় নির্যাতিতার মা অসুস্থ বোধ করলে বিকেল ৩টার কিছু পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর শুভেন্দু অবস্থান প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের কর্মসূচিতে যোগ না দিলেও বিকেলের কালীঘাট অভিযানের সাফল্যের জন্য তাঁরা সমর্থন জানাচ্ছেন।


পরে হাসপাতালে গিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, আন্দোলনে আহত হয়ে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি, আরও ১৫-১৬ জন চিকিৎসাধীন। বিজেপি অভিযোগ তোলে, বিনা প্ররোচনায় পুলিশ বারবার লাঠিচার্জ করেছে। পাল্টা অভিযোগ ওঠে, বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে।
যদিও মধ্য কলকাতা ও হাওড়ার কিছু অংশে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র সমাজের নবান্ন অভিযানের মতো তীব্র সংঘাত দেখা যায়নি। জলকামান ব্যবহার হয়নি, কেবল কিছু জায়গায় লাঠি চালাতে হয়েছে। গোলমাল ও হিংসার মাত্রা কম থাকায় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নবান্ন অভিযান বিজেপির প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, তাদের কর্মসূচি ‘সফল’।








