আত্মরক্ষায় ৯০ হাজার ত্রিশূল বিলি! সেপ্টেম্বরে নবান্ন অভিযান বিজেপির।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আত্মরক্ষায় ৯০ হাজার ত্রিশূল বিলি! সেপ্টেম্বরে নবান্ন অভিযান বিজেপির। কর্মীদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, রাজ্যে গণতন্ত্র লুঠ, চুরি ইত্যাদি একাধিক অভিযোগ সামনে রেখে নবান্ন অভিযান ঘোষনা করা হয়েছে। রবিবার যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এই ঘোষণা করেন। যদিও আজ অভিযানের দিনক্ষন ঘোষণা করেননি তিনি। উল্লেখ্য এর আগে নেড়া হয়ে বিষ্ণুপুরের মন্দিরে পুজো দিয়ে বিজেপি কর্মীদের সেলফ ডিফেন্সের জন্যে ৯০ হাজার ত্রিশূল বিলি করে ছিলেন সাংসদ!

আরও পড়ুনঃ ছন্দে ফিরছে তিলোত্তমা। ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে চলবে কলকাতা মেট্রো।

আত্মরক্ষায় ৯০ হাজার ত্রিশূল বিলি! সেপ্টেম্বরে নবান্ন অভিযান বিজেপির। অনেক টানা পোড়েনের পর এদিন এদিন যুব মোর্চার নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেন সৌমিত্র খাঁ। রাজ্য কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে স্থান পেলেন বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা এবং আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিজেপির রাজ্য যুব মোর্চা সৌমিত্র খাঁর দলীয় কোন্দল দেখা দিয়েছিল এই ইস্যুতেই। শুক্রবার বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ ২৯ টি জেলার যুব সভাপতিদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন।

সৌমিত্র খাঁর সেই তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই তা মুছে দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। হঠাৎ করে কেন তালিকা দিয়েও তা মুছে দেওয়া হল? এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন যে ওটা যুব মোর্চার জেলা সভাপতিদের চূড়ান্ত তালিকা নয়। তাই তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে। তিনি সৌমিত্র খাঁ কে বলেছেন, রাজ্য বিজেপি পার্টি চূড়ান্ত না করতেই সে কি করে ওই তালিকা পাঠিয়ে দিল।

তবে সৌমিত্র খাঁ-র বক্তব্য, ওই তালিকা যে চূড়ান্ত তালিকা নয়, সেকথা তাকে কেউ জানায়নি। আর যুব সভাপতির এক মন্তব্য এবং রাজ্য সভাপতির আর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন টালমাটাল বিজেপির অন্দরমহল। অনেকে বলছেন, মুকুল রায়ের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দ্বৈরথের কথা সকলেরই জানা। বিজেপির অভ্যন্তরীণ এই চর্চা নিয়ে ব্যস্ত। আর এমত পরিস্থিতিতে একসময় তৃণমূলের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এই মুকুল রায়ের হাত ধরেই যোগদান করেছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে।

তারপর থেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বিজেপির সৌমিত্রবাবুকে মুকুলবাবুর লোক হিসেবেই ধরে নিয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর যুব মোর্চার সভাপতি মুকুল রায়ের অনুগামী বলে পরিচিত সৌমিত্র খাঁ কে দেওয়ার উপর বেশ ভালোই সমস্তকিছু চলছিল। কিন্তু এবার হঠাৎ করে বিভিন্ন জেলায় যুব মোর্চার সভাপতি তালিকায় নিয়ে তৈরি করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে না করতেই দীলিপবাবু সৌমিত্রর তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে মুকুল রায় বনাম দিলীপ ঘোষের দ্বৈরক আরও একবার সামনে এল। অনেক রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যদি এভাবেই চলতে থাকে তাহলে রাজ্যের ক্ষমতা দখল তো দূরের ভাবনা। বিরোধী আসন জুটবে কিনা তা নিয়ে তর্ক বিতর্কের অবকাশ সৃষ্টি হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন