নজরবন্দি ব্যুরোঃ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের শিশুমৃত্যু হল জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪-এ। এদিন কয়েক ঘন্টা আগে ৩ মাসের শিশু প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তারপর কিছুক্ষন আগে সদ্যোজাত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আজকের শিশু মৃত্যু নিয়ে শুধু জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালেই শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দাড়াল ৪-এ।
আরও পড়ুনঃ ৬ জন শিশুর শরীরে মিলল স্ক্রাব টাইফাসের জীবাণু, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭


উত্তরবঙ্গের জনস্বাস্থ্য বিভাগের ওএসডি ডাঃ সুশান্ত রায় জানিয়েছেন, মনতা বেগমের সদ্যজাত এই শিশুটি গতকাল রাতে ভর্তি হয়েছিল। বাচ্চাটি প্রি-ম্যাচিওর ছিল। হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এদিকে প্রবল গতিতে ছড়াচ্ছে অজানা জ্বর, হুহু করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে জলপাইগুড়িতে। হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রতিদিন প্রায় ৩০০ শিশুকে নিয়ে আসা হচ্ছে হাসপাতালে। যার মধ্যে ভর্তি হচ্ছে কমপক্ষে ৪০ জন। এই মুহুর্তে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮৮টি শিশু।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ৬ জন শিশুর শরীরে মিলল স্ক্রাব টাইফাসের জীবাণু পাশাপাশি সাত শিশুর শরীরে মিলেছে ডেঙ্গুর জীবাণু। তবে চিকিৎসক রা বলছেন, স্ক্রাব টাইফাস নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকেই স্ক্রাব টাইফাস থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, জ্বরে আক্রান্ত ৬৫ শিশুর নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের শরীরে মিলেছে স্ক্রাব টাইফাস, এবং ৭ জনের শরীরে মিলেছে ডেঙ্গুর জীবাণু।
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের শিশুমৃত্যু, রাজ্যে অজানা জ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০০০ শিশু



অন্যদিকে, প্রতিদিনই অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু। অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪২ জন শিশু। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে অজানা জ্বরে আক্রান্ত ১৫০ জন শিশু। তাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সূত্রের দাবি, কলকাতা ও তার সংলগ্ন জেলাগুলিতে জ্বরের কারণ খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে প্রায় ১০ রকমের জ্বর। তারমধ্যে কোথাও করোনা, কোথাও সোয়াইন ফ্লু, দু’একটি ক্ষেত্রে স্ক্রাব টাইফাস, ইনফ্লুয়ে়ঞ্জা -এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা -বি, আরএসভি ধরা পড়েছে।







