আইপিএল থেকে নাম ছাঁটা গেলেও ক্রিকেট থেমে থাকছে না মুস্তাফিজুর রহমানের। কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সি খুলে যাওয়ার তিন দিনের মধ্যেই নতুন ঠিকানা পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার। আইপিএলের দরজা আপাতত বন্ধ হলেও পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার সুযোগ কাজে লাগালেন তিনি। পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সরকারি ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই নাম নথিভুক্ত হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের, যা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে তাঁকে তুলে ধরেছে।
গত শনিবার Kolkata Knight Riders মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেয়। সূত্রের খবর, Board of Control for Cricket in India-র নির্দেশের জেরেই এই সিদ্ধান্ত। ফলে আইপিএলে তাঁর খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়। কিন্তু হতাশায় ভেঙে না পড়ে দ্রুত বিকল্প পথ খুঁজে নেন বাংলাদেশের এই জোরে বোলার। আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পরপরই পাকিস্তানের ক্রিকেট কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর। প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষে পিএসএলে খেলার প্রস্তাবে সম্মতি দেন মুস্তাফিজুর।


পাকিস্তান ক্রিকেট কর্তাদের তরফে সমাজমাধ্যমে মুস্তাফিজুরের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, “ব্যাটারদের সাবধানে খেলতেই হবে। পিএসএল ১১-এ যোগ দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।” আগামী ২৬ মার্চ শুরু হচ্ছে Pakistan Super League, চলবে ৩ মে পর্যন্ত। কোন দলের হয়ে খেলবেন মুস্তাফিজুর, তা এখনও ঠিক হয়নি। নিলামে যে দল তাঁকে দলে নেবে, সেই জার্সিতেই আবার দেখা যাবে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্লোয়ার-কাটার বিশেষজ্ঞ এই পেসারকে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে রংপুর রাইডার্স-এর হয়ে খেলছেন মুস্তাফিজুর। ফর্মও ভালো। আইপিএলের নিলামে কেকেআর তাঁকে ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছিল। দল থেকে বাদ পড়ায় সেই অর্থ আর পাচ্ছেন না তিনি। তবে আর্থিক ক্ষতি বা আইপিএল না খেলতে পারার হতাশা তাঁকে বিচলিত করেনি বলেই দাবি ঘনিষ্ঠ মহলের।
রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচ মহম্মদ আশরাফুল জানিয়েছেন, “মুস্তাফিজুর একেবারেই শান্ত। চারপাশে যা চলছে, তা নিয়ে ও একটুও বিচলিত নয়। এখন ওর একমাত্র লক্ষ্য রংপুরের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়া।” একই সুর শোনা গিয়েছে সতীর্থ মহম্মদ সৈফুদ্দিন-এর কণ্ঠেও। তাঁর কথায়, “আমরা ভেবেছিলাম ফিজ ভাই হয়তো খুব হতাশ হবে। কিন্তু ও একদম স্বাভাবিক। গান শুনছে, হাসি-ঠাট্টা করছে।”


উল্লেখ্য, এটি মুস্তাফিজুরের পিএসএল যাত্রার প্রথম অধ্যায় নয়। ২০১৮ সালে তিনি এই লিগে খেলেছিলেন Lahore Qalandars-এর হয়ে। পাঁচ ম্যাচে নিয়েছিলেন চার উইকেট। সাত বছর পর আবার পাকিস্তানের মাটিতে তাঁকে দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। আইপিএল না হলেও, আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মুস্তাফিজুর যে এখনও চাহিদার শীর্ষে—এই সুযোগই তার প্রমাণ।







