আইপিএলে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারত–বাংলাদেশ ক্রীড়া সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। বাংলাদেশের সংস্কৃতি উপদেষ্টা Mostofa Sarwar Farooki এই ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে শুধু ক্রিকেট নয়, ভবিষ্যতে ফুটবল ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।
শনিবার রাতে সমাজমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ফারুকী লেখেন, আইপিএলে মুস্তাফিজুরকে নিয়ে যা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের বহু নাগরিককে ব্যথিত করেছে। তাঁর দাবি, এই ঘটনার মধ্যে অনেকেই ‘ঘৃণার রাজনীতির’ ছায়া দেখছেন। পাশাপাশি তিনি ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন, যা আগে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল।


নিরাপত্তা প্রশ্নে ক্রিকেট–ফুটবল দুই ক্ষেত্রেই উদ্বেগ
ফারুকীর মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ভবিষ্যতে ভারতে বাংলাদেশের ক্রিকেট বা ফুটবল দল কতটা নিরাপদ—তা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি লেখেন, “আমাদের ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই দিকটি নিশ্চয়ই দেখা হবে।”
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন Board of Control for Cricket in India (বিসিসিআই) মুস্তাফিজুরকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, Kolkata Knight Riders তাঁকে ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় দলে নিয়েছিল। কিন্তু বোর্ডের নির্দেশে কেকেআরকে জানানো হয়েছে, মুস্তাফিজুরকে বাদ দিয়েই দল গঠন করতে হবে এবং তাঁর পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড় নেওয়া যাবে।
বিশ্বকাপ ও সম্প্রচার নিয়ে কৌশলগত চাপ?
এই ঘটনার পরই বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে তারা আসতে চায় না। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে Bangladesh Cricket Board বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, যদিও এখনও International Cricket Council (আইসিসি) এ বিষয়ে কোনও অনুমোদন দেয়নি।


একই সঙ্গে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার ভাবনাও আলোচনায়। ফারুকী জানিয়েছেন, আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার দাবিতে অনেক আবেদন তাঁর কাছে এসেছে। তবে এটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের আওতাভুক্ত বিষয়, এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেই মন্ত্রকই নেবে।
অনিশ্চয়তার মধ্যেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
বিশ্বকাপ শুরু হতে সময় খুব কম। শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন বা সূচি বদল আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হলে আয়োজকদের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মুস্তাফিজুর ইস্যু শুধু একটি খেলোয়াড়ের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই—তা এখন দুই দেশের ক্রীড়া ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।







