দিদি না দাদা ! অনুগামী কার থাকবেন সেই ধন্ধে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে অনুপস্থিত মোশারেফ।

দিদি না দাদা ! অনুগামী কার থাকবেন সেই ধন্ধে  মুখ্যমন্ত্রীর  বৈঠকে অনুপস্থিত মোশারেফ।

নজরবন্দি ব্যুরো: দিদি না দাদা ! বাংলায় ভোট আসতে এখনো সময় আছে বেশ কমাস। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলার রাজনীতিতে ট্রেন্ড হিসেবে চলছে ” দাদার অনুগামী” থেকে ” দিদির অনুগামী” দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যেই হঠাৎ করে দেখা দিচ্ছে রাগ, অভিমান । বৈঠকে ভাঙ্গানো হচ্ছে রাগ। অনুগামী দের দল বদল হচ্ছে রোজ রোজ। অন্যান্য জেলার মতোই মুর্শিদাবাদ ও বাদ পড়ছে না এইসব থেকে। মুর্শিদাবাদে দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে কোন্দল।

আরও পড়ুনঃ ফের উত্থানের জমিতেই ভাঙ্গন তৃণমূলের! এবার BJPতে সিঙ্গুর বিধায়ক পুত্র

জেলা তৃণমূলের কোন্দলের আঁচ পৌঁছেছে রজ্যস্তরেও। মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আবু তাহেবের সঙ্গে বনিবনা হয়না জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারেফ হোসেন ওরফে মধুর। সেই দ্বন্দ্বের আঁচ পৌঁছেছে রাজ্য স্তরেও। আর সেই জন্যেই মমতা বন্দোপাধ্যায় এর উপস্থিতিতে বৈঠকের জন্য মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে ডেকে পাঠানো হয় কোলকাতার তৃণমূল ভবনে। কিন্তু বাকি সব নেতারা কলকাতায় এলেও মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় আসেননি মোশারেফ হোসেন।

দীর্ঘ দিন ধরেই শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মোশারেফ। বাংলার এই মুহুর্তের রাজনীতিতে সবথেকে বড়ো বদল ঘটিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। আর তার পর থেকেই একদল ভাগ হয়ে যায় ‘ দাদার অনুগামী’ বলে। কেউ কেউ দাদার অনুগামী হচ্ছেন, আবার রাগ ভাঙানোর পর ‘ দিদির অনুগামী’ হয়ে আস্থা রাখছেন তৃণমূলে। বাংলার এই পরিস্থিতিতে গত বেশ কয়েকমাস ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার সভাধিপতি মোশারেফ ওরফে মধু।

দিদি না দাদা ! আর তা জনসমক্ষে স্পষ্ট ভাবে উঠে আসে জেলা কর্মাধক্ষ মফেজুদ্দিন মণ্ডলের স্বরণ সভাকে কেন্দ্র করে। শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে দলের ব্যানার ছাড়াই স্বরনসভা আয়োজন করেন মোশারেফ। ব্যাস সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। সরিয়ে নেওয়া হয় মধুর নিরাপত্তারক্ষী ও। বাংলায় দলবদলের সাথে পাল্লা চলছে দিয়ে মানভঞ্জন । রাজ্য নেতৃত্বের সাথে বনিবনা মেটাতে আগে একবার বৈঠক হয়েছিল মধুর। তখন ‘ দাদার অনুগামী ‘ থেকে নিজেকে “, দিদির অনুগামী” বলে পরিচিতিও দেন।দলে থাকার বার্তা দিলেও খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন না তিনি।

এদিন মুর্শিদাবাদের বাড়িতে গিয়ে দেখাও যায় তাঁকে। দলের ব্যানার ছাড়া কর্মসূচী থেকে একাধিক কারণে গত সপ্তাহে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে অভিযোগ জানায় মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে ডাক পাঠানো হয়েছে বিজেপি ঘিরে ফের তৃণমূল আসা প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ূন কবীর কেও। তার মধ্যেই অনুপস্থিত থাকছেন মোশারেফ। তাঁর এই অনুপস্থিতি কী কোনো আন্দাজ দিচ্ছে তাঁর আগামী সিদ্ধান্তের? এতে দল কী ব্যবস্থা নেয় , আর কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মোশারেফ নিজেই তা বেশ ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x