মুর্শিদাবাদ ট্রেন দুর্ঘটনায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা’

কর্ণসুবর্ণের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই গেটম্যান গ্রেপ্তার, তদন্তে নেমেছে রেল ও পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করা হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

Murshidabad Train Accident-এর পর কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণের কাছে লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুই শিশু-সহ তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে তিনি জানান, এই ঘটনায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘কঠোরতম ব্যবস্থা’ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। বিশেষ করে নিহত দুই শিশুর পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে তিনি লেখেন, এমন শোকের মুহূর্তে ভাষায় সান্ত্বনা দেওয়া সম্ভব নয়। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

রেলের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে খাগড়াঘাট রোড ও কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের মধ্যবর্তী একটি লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রেলের দাবি, ১৩৪৩১ আপ নবদ্বীপ ধাম–বালুরঘাট এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ভুলবশত লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খুলে দেন। ঠিক সেই সময় ৫৩০৫৪ নিমতিতা–কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন সেখানে পৌঁছে যায় এবং রেললাইন পার হওয়া একটি পুলকারকে ধাক্কা মারে।

এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জেসিকা ইয়াসমিন (৯), ফারহানা সুলতানা (৬) এবং জামশেদ আলি (৬৫)-র। আহত পাঁচ জনকে দ্রুত বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রশাসনের তৎপরতা

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ ইতিমধ্যেই হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নিয়েছেন। জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গ্রেপ্তার, সাসপেনশন ও ক্ষতিপূরণ

ঘটনার তদন্তে বহরমপুর থানার পুলিশ অনুপ কর্মকার নামে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে। রেলের তরফে তাঁকে এবং সংশ্লিষ্ট পিডব্লিউআই (PWI) কৌশিক মাল-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ভারতীয় রেল।

আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছে প্রশাসন।

মুর্শিদাবাদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে রেল নিরাপত্তা এবং লেভেল ক্রসিং পরিচালনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই দায় নির্ধারণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ আরও স্পষ্ট হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর