নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিশ সাল বাদের জয়ের শপথেও মৌন-মুকুল! কয়েক মিনিটের মধ্যে এসে নিজের শপথ পাঠ করেই বেরিয়ে গেলেন, এড়িয়ে গেলেন সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর। শুধু কথা বলে গেলেন সুব্রত বক্সির সঙ্গে। আর তাতেই ফের পুরান পিচে কামব্যাকের জল্পনা এক ধাপ উস্কে দিয়ে গেলেন রাজনীতির ‘চাণক্য’।
আরও পড়ুনঃ মমতাকে বারমুডা পরার নিদান, দিলীপের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হলো পুরুলিয়ায়


২০ বছর পর ভোটে লড়েছেন তিনি। আর জিতেওছেন। যদিও প্রথমে রাজি না হলেও হাল ধরে রাখতে একেবারে শেষ মুহুর্তে গিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে। তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেত্রী কৌশানীকে হারিয়ে এই বাজি জিতে নিয়েছেন তিনি। আজ বিরোধী দলের জয়ী বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তিনি। কিন্তু কোন উচ্ছাস ছাড়া, মৌন-মুকুল হয়েই রইলেন সময়টুকু।
১২.০৪ মিনিট থেকে ১২.২৫ মিনিট পর্যন্ত বিধানসভায় ছিলেন তিনি। শপথের সময় টুকু ছাড়া বিশেষ কথা বার্তা বলেননি কারো সঙ্গেই। বিধানসভায় প্রবেশের পরেই তৃণমূল পরিষদীয় দলের ঘরে যান প্রাক্তন তৃণমূল নেতা। সেখানে এক সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলে চলে যান শপথগ্রহণ কক্ষে, পাঠ করেন শপথ বাক্য। অধিবেশন কক্ষে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন সুব্রত বক্সির সঙ্গে। ব্যাস এটুকুই। একটিবারও ঢোকেননি তাঁর নিজের দল বিজেপির পরিষদীয় দলের ঘরে। আজ সেখানে নতুন বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু সেই বৈঠকে যোগ না দিয়েই বিধানসভা থেকে চলে যান মুকুল।
মাত্র কয়েক মিনিটের বিধানসভায় থাকা, কারো সাথে সেই অর্থে বাক্যালাপ না করা যেমন প্রশ্ন জাগিয়েছিল, তেমনই বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি যা বলেছেন তাতে আরও জল্পনা বেড়েছে ‘চাণক্য’কে ঘিরে। সাংবাদিকরা তাঁকে বিরধী দলনেতা হয়া থেকে শপথ একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে শুধু বলেছেন, “আমি এখন কিছু বলব না। যখন বলার হবে, তখন সাংবাদিকদের ডেকে নেব।” সঙ্গে বলেন “মানুষের জীবনে এমন দু’একটা দিন আসে, যখন মানুষকে চুপ থাকতে হয়।”


বিশ সাল বাদের জয়ের শপথেও মৌন-মুকুল! এমনিতেও গত কয়েকদিন ধরেই বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে আবার হয়তো পুরান পিচেই কামব্যাক করবেন তিনি। জল্পনার শুরু হয়েছিলো মুখ্যমন্ত্রী যেদিন বলেছিলেন, মুকুল শুভেন্দুর মত নয়, ও ভালো ছেলে। জল্পনা শুরু হয়েছিলো তাহলে কি তলায় তলায় পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নিছহেন তিনি।
এমনিতেও গেরুয়া শিবিরে আজকাল নিষ্ক্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। বহুবিদ বাদে ভোট লড়ে জিতে এলেও সেরকম উচ্ছাস প্রকাশ করেননি। তার মধ্যে আজ দলীয় পরিষদের মিটিং এমনকি কক্ষ এড়িয়ে শুধুমাত্র সুব্রত বক্সির সঙ্গে কথোপকথন করে ফিরে আসা, তাঁর আগের ঘরে কামব্যাকের জল্পনাকে আরও একটু উস্কে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।







