নজরবন্দি ব্যুরোঃ কথায় আছে প্রাক্তনকে ভোলা সহজ নয়। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে প্রাক্তন দলকে, বিরোধী শিবির বলেই মনে রাখেন সকলে। দরাজ কন্ঠে প্রশংসা বেশ বিরল ঘটনা তা বলা চলে। আর এমন কাজটাই করে বসলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। তবে রাজনীতির সফরে বিনা কারণে কেউ গতির অভিমুখ বদলান না, তাই রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র ভূয়সী প্রশংসা করে কি ফের দল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে চাইলেন শত্রূঘ্ন?
আরও পড়ুনঃ DA: চলতি মাসেই মিলবে ডিএ, শীঘ্রই সুখবর সরকারি চাকুরীজীবীদের জন্য


‘রাহুলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবরকমের যোগ্যতা রয়েছে’,এদিন এমনটাই বলে বসলেন তৃণমূল সাংসদ। সেখানেই না থেমে আরও বললেন, রাহুলের পরিবারের লোক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের সেবা করেছেন এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এরপরেই তাঁর প্রাক্তন দল বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিজেপি সবসময় জানতে চায় কংগ্রেস ৭০ বছরে কী করেছে। দেশকে আইআইটি এবং আইআইএম-এর মতো প্রতিষ্ঠান কে দিয়েছে শত্রুঘ্নের পাল্টা প্রশ্ন বিজেপিকে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রা যে বড় প্রভাব ফেলবে তার আগাম ভবিষ্যত বানী করলেন তিনি।

কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী সুদীর্ঘ পথ ধরে ভারত জোড়ো যাত্রার মিছিলে হাঁটছেন রাহুল গান্ধী ও অগণিত কংগ্রেস সমর্থক। একাধিক সেলিব্রিটি পাশে হেঁটে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপি ও আর এস এসের মতকে উড়িয়ে দেশের ঐক্য বাড়াতে পারে কংগ্রেস। স্বরা ভাস্কর, রেশমি দেশাই, সুশান্ত সিং, রিয়া সেন, অমল পালেকার, রঘুরাম রাজন, কামাল হাসান, পূজা ভাটের মতো বলিউড তারকাদের হাঁটতে দেখা গিয়ছিল রাহুল গান্ধীর হাত শক্ত করতে। আর সেই দেখেই কী মন্তব্য করে সমগ্র ভারতের নিরিখে লাইম লাইটে আসার চেষ্টা করলেন আবারও? তবে রাজনৈতিক মহল বলছে এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক অভিসন্ধি।
রাহুলের ভারত জোড়োর প্রশংসায় পঞ্চমুখ শত্রুঘ্ন! ফের দল পরিবর্তনের ইঙ্গিত?



রাজনীতির জগতে এসে প্রকৃত অভিনয় চালিয়ে যেতে হয়। এখানে ভিলেন নয়, নিজেই নায়ক হয়ে উঠেছেন শত্রুঘ্ন। তার গতিপ্রকৃতি বোঝা বেশ দায়। রাজনৈতিক কেরিয়ারের প্রথম দিকে বিজেপির থেকে মনক্ষুণ্ণ হয়ে শত্রুঘ্ন যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। পাটনাশাহিবে হারের পর কংগ্রেসেও রাখতে পারেননি মুখ। তৃনমূলের টিকিটে আসানসোলের সাংসদ হওয়ার পর, তিনি যে কেবল তারকা মুখ হয়ে ভোট প্রচারের অস্ত্র বলে থেকে গেলেন সেইকথা কয়দিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। ফলত ‘রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা অভূতপূর্ব’ বলে তিনি তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেন উপরন্তু নিজের সঙ্গে আবারও জড়িয়ে নিলেন বিতর্কের চাদর।







