নজরবন্দি ব্যুরোঃ আফ্রিকার এক বিষাক্ত পোকার আতঙ্কে কাঁপছে পাহাড়। নাইরোবি ফ্লাই (Nairobi Fly) বা অ্যাসিড পোকার আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। উত্তরবঙ্গ জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সিকিম থেকে শিলিগুড়ি, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নাইরোবি ফ্লাই। স্থানীয়রা বলছেন, অ্য়াসিড পোকা। এমন একধরনের পোকা যার বিষে অ্যাসিড পোড়ার মতোই দগদগে ঘা হচ্ছে চামড়ায়। তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে বহু মানুষ। হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছে অনেকে।
আরও পড়ুনঃ জোড়া ঘূর্ণাবর্তের দাপট, ২৪ ঘণ্টায় আরও বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস
সিকিমে প্রথম এই পোকার উপদ্রবের কথা শোনা গিয়েছিল। বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন উত্তরবঙ্গের নানা জায়গায় এই পোকার কথা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিলিগুড়িতে পোকায় কাটা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। নাইরোবি ফ্লাই নিয়ে তাই সতর্ক প্রশাসনও। জেলা প্রশাসন সাবধানতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। শিলিগুড়ি পুরসভার তরফ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে নাইরেবি মাছির আক্রমনে আক্রান্ত মানুষের খোজ পাওয়া গেছে সঙ্গে কালিম্পং এবং কার্শিয়াং এও এই পোকার উপদ্রব লক্ষ করা যাচ্ছে। জলপাইগুড়ি পুরসভার তরফ থেকে প্রতিদিন ফিনাইল এবং জীবানুনাষক ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। জলপাইগুড়ি যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সৈকত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘রবিবার থেকে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খোজ করা হবে এই পোকার আক্রমনের শিকার কেউ হয়েছেন কি না।’

নাইরেবি ফ্লাই এর আতঙ্ক ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি কলেজেও। কলেজের বিভিন্ন জায়গায় আজ থেকে স্প্রে করবে কলেজ কতৃপক্ষ।এখনো পযর্ন্ত এই পোকার আক্রমনে গোটা শিলিগুড়িতে একহাজার জনের আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে। শিলিগুড়ির পরে এবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে নাইরোবি ফ্লাইয়ের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পোকার আক্রমণে অসুস্থ রামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এক কনস্টেবল। অন্যদিকে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে।
পাহাড় ছেয়ে গেছে অ্যাসিড পোকায়, আতঙ্কে রয়েছে উত্তরবঙ্গ

নাইরোবি ফ্লাই পিঁপড়ের মতো দেখতে পোকা। রঙ কমলা ও কালোর মিশেলে। আলো দেখলেই আকৃষ্ট হয়ে ছুটে আসে এই পোকা। ঝোপঝাড়-জঙ্গলেই বেশি দেখা যায় এদের। বিশেষ করে বেশি বৃষ্টি হয় যেসব অঞ্চলে সেখানেই গাছপালার মধ্যে এই পোকা বেশি জন্মায়। আর্দ্র-স্যাঁতস্য়াঁতে জায়গায় এদের দেখা বেশি পাওয়া যায়। এই পোকার শরীর থেকে ক্যান্থারাইডিন নামে টক্সিন বের হয় যা ত্বকের জন্য বিষ। ফোস্কার মতো ক্ষত তৈরি হয় ত্বকে। এমনকি এই পোকার বিষ চোখে লাগলে তার থেকে অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে।



