নজরবন্দিঃ মা! পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। আসলে হাজার হাজার অপরাধ করেছি। ঠিক কোনটার জন্য ক্ষমা চাইবো, সেটাও গুছিয়ে উঠতে পারছি না। যখন আমি তেরো বছর তখন তোমাকে প্রথম বার অসহ্য মনে হয়েছিল। আমি বড় হয়েছিলাম, অনায়াসে তোমার জুতো আমার পায়ে হয়ে যেত, অথচ, বিট্টুদের বাড়িতে সন্ধ্যার পর খেলছিলাম বলে তুমি বকেছিলে।
আরও পড়ুনঃ ‘মাদার্স ডে’-তে কীভাবে মা-কে সারপ্রাইজ দেবেন? রইল কিছু অভিনব উপহারের তালিকা…


আমার সব বন্ধুদের মা স্কুলের হোম ওয়ার্ক করিয়ে দিত, তুমি পড়াশোনা জানতে না বলে সেটাও করতে না। সারাদিন শুধু মূল্যবোধের জ্ঞান দিতে, আমার ভালো লাগত না। কুমড়ো, ঢেঁড়স খেতে আমার ভালো লাগতো না, তুমি জোর করে খাওয়াতে, শ্বশুর বাড়িতে সমস্যা হবে ভেবে। আমার কি কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিলনা? সেই তেরো বছর থেকে কলেজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তোমার কথা বিষের থেকেও অসহ্য মনে হত আমার।

তুমি যাদের সাথে মিশতে মানা করতে, আমি তাদের সাথে বেশি করে মিশেছি। কিন্তু কি জানো মা? তারা সবাই শেষে ঠকিয়েছে। সোমনাথকে আমি বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, সবাই মেনে নিলেও তুমি মেনে নাওনি। আমি সেদিনও তোমাকে ক্ষমা করতে পারিনি। তুমি কি দেখে সোমনাথকে অপছন্দ করেছিলে জানিনা কিন্তু বৌভাতের পর থেকেই সোমনাথ নির্যাতন শুরু করে। আমি ভালো নেই মা। তোমার কথা শুনিনি। একদিন শরীর খারাপ ছিল বলে মাত্র চারটে থালা ধুয়ে রাখতে বলেছিলে।



ওই শীতে আমি পারিনি। একটা শাড়িও কেচে দিইনি তোমার। হাঁটুর ব্যাথা জেনেও দুটো ঘর মুছতে পারিনি। এখন একান্নবর্তী সংসারের যাবতীয় থালা বাসন তিন বেলা আমাকে ধুতে হয়। সবার কাপড় আমি কাচি। স্কুল বাড়ির মত গোটা বাড়িটা প্রতিদিন আমাকেই মুছতে হয়। একদিন এককাপ চা করে দিয়েছিলাম বলে তুমি কি খুশি হয়েছিলে। সবাইকে ফোনে বলেছিলে চা এর কথা।

আমি তিন বেলা রান্না করেও শাশুড়ি মা এর মন জয় করতে পারিনি। মা, এখন আমিও একটি কন্যা সন্তানের মা। পাশের বাড়ির ছেলেটার সাথে সন্ধ্যার পর খেলতে দিইনা বলে সেও রাগ করে। কারা বন্ধু নয় বোঝাতে গেলে সেও রাগ করে। সব্জী খেতে বলায় সেও আমাকে ভুল বোঝে। আবার একদিন কোনো এক সোমনাথ এর হাত থেকে তাকে বাঁচাতে চাইলে সেও আমাকে ঘৃণা করবে।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও মা
মা তোমাকে বলনি, বিয়ের এক মাস না পেরোতেই সোমনাথ আমার দুই হাঁটু ধরে এমন ভাবে টেনেছিল, যে আমার যোনীর নীচের চামড়া ছিঁড়ে রক্ত বেরিয়েছিল। তোমাকে বলিনি মা, আমার শরীরে আরও অনেক আঘাত আছে। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিও।
লেখক- প্রিয়াঙ্কা সুলতানা







