বিষপান শেষে অমৃত যোগ ব্রাত্যর ছোঁয়ায়, শিক্ষক আন্দোলনকে ‘কলুষিত করলেন’ মইদুলরা?

বিষপান শেষে অমৃত যোগ ব্রাত্যর ছোঁয়ায়, শিক্ষক আন্দোলনকে 'কলুষিত করলেন' মইদুলরা?
বিষপান শেষে অমৃত যোগ ব্রাত্যর ছোঁয়ায়, শিক্ষক আন্দোলনকে 'কলুষিত করলেন' মইদুলরা?

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিকাশ ভবনের সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। অনৈতিক বদলির প্রতিবাদে বিষ খেয়েছিলেন সেদিন। বিষ খেয়েছিলেন শাসকের দিকে আঙুল তুলে। কিন্তু এখন সময় বদলে গেছে, সেই পাঁচ শিক্ষিকা ও তাঁদের নেতা মইদুল এখন যোগ দিলেন সেই শাসক দলেই। শাসকের বিরুদ্ধে বিষপান শেষে অমৃত যোগ ব্রাত্যর ছোঁয়ায়! যাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন তাঁর হাত থেকেই পতাকা নিলেন মইদুলরা!

আরও পড়ুনঃ সায়নীর পাশে অভিষেক, আজই যাচ্ছেন আগরতলায়

অনৈতিক ভাবে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে বদলি করে দেওয়ার অভিযোগে রাজপথ কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন গত ২৪ অগাস্ট। অনৈতিক বদলির প্রতিবাদে বিকাশ ভবনের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন পাঁচ শিক্ষিকা। ঘটনার জেরে ঝড় ওঠে রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধীরা গর্জে ওঠে শিক্ষিকাদের পাশে দাঁড়িয়ে। খবরের শিরোনাম হয় শিক্ষিকারা বিষপান করতে বাধ্য হচ্ছেন এই সরকারের আমলে। সেই শিক্ষিকারা তাঁদের নেতা মইদুল ইসলাম সহ যোগ দিলেন শাসক দলে।

সেই সময় এই শিক্ষিকারা অভিযোগ করেছিলেন, “আমাদের সামান্যতম বেতন দেয়। অথচ বাড়ি থেকে অত দূরে গিয়ে কাজ করতে বলছে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে আমাদের পক্ষে কাজ করা কী ভাবে সম্ভব?” বিকাশ ভবনের সামনে সেদিনের বিক্ষোভ রূপ নিয়েছিল প্রকাশ্যে আত্মহত্যার। বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কয়েকজন শিক্ষিকা। এই ঘটনা বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল রাজ্য সরকার কে।

বিষপান শেষে অমৃত যোগ ব্রাত্যর ছোঁয়ায়, শিক্ষক আন্দোলনকে ‘কলুষিত করে’ শাসক দলের ছত্রছায়ায় মইদুলরা!

বিষপান শেষে অমৃত যোগ ব্রাত্যর ছোঁয়ায়, শিক্ষক আন্দোলনকে 'কলুষিত করে' শাসক দলের ছত্রছায়ায় মইদুলরা!
বিষপান শেষে অমৃত যোগ ব্রাত্যর ছোঁয়ায়, শিক্ষক আন্দোলনকে ‘কলুষিত করে’ শাসক দলের ছত্রছায়ায় মইদুলরা

শিক্ষক নেতা মইদুল ইসলাম একাধিকবার অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই মইদুলের গলায় শোনা গেছে প্রশংসার সুর। মইদুল জানিয়েছেন,  “আমরা শিক্ষক সংগঠন। শিক্ষক স্বার্থটাই আমাদের কাছে সব থেকে বড়। সেই জায়গা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ, গৈরিকীকরণ এসবের বিরুদ্ধে তো আমরা লড়াই করি। স্বাভাবিক কারণেই সেটা একটা বিষয়। এই তো আজ আন্দোলনের চাপে কৃষিবিল প্রত্যাহার হল।”

তার কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে সরকারকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। প্রশাসনিক বৈঠক থেকে দুয়ারে সরকার, দুয়ারে রেশন, কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী সব করেছেন উনি। আন্দোলন আমরা করেছি ঠিকই। কিছু দাবি মান্যতাও পেয়েছে। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখেছি। আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন আমাদের দাবি অনেকটা মিটেছে। একই ভাবেই আমরা চাই রাজ্য সরকারের জনমুখী কাজের সঙ্গী হয়েও শিক্ষক সমাজের স্বার্থ সংরক্ষিত করতে পারব।”