তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে মোদিকে নরকাসুরে বলা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। বিহারের ভোট মিটতেই নজর এখন দক্ষিণের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে, যেখানে আগামী বছরের শুরুতেই নির্বাচন। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার তামিলনাড়ু সফরে গিয়ে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন এবং জনসভায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
এই সফরের মাঝেই বিতর্ক বাড়িয়ে দিলেন ডিএমকে-র তেঙ্কাসি দক্ষিণ জেলা সম্পাদক জে. জয়বলন। এক জনসভায় তিনি দাবি করেন, “মোদি তোমাদের ভোট চুরি করতে চাইছে। সে আসলে এক নরকাসুর। তামিলনাড়ুর উন্নতি তখনই হবে, যখন ওকে শেষ করা হবে।” এই ব্যক্তিগত আক্রমণ মুহূর্তে তামিল রাজনীতিকে উত্তাল করে তোলে।
জয়বলনের দাবি, কেন্দ্র সরকার তামিলনাড়ুর প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো রেল প্রকল্পের অনুমোদন দেয়নি। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই তাঁর ক্ষোভ উগড়ে পড়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীকে ‘নরকাসুর’ বলে আক্রমণ করায় বিরোধীদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। কারণ হিন্দু পুরাণে নরকাসুর একটি ভয়ঙ্কর অসুর, আর তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তুলনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
মোদিকে ‘নরকাসুর’ বললেন তামিলনাড়ুর DMK নেতা, পালটা আক্রমণে বিজেপি
বিজেপির পালটা—ডিএমকের রাজনীতি এখন ঘৃণার পর্যায়ে পৌঁছেছেঃ
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ডিএমকে শাসনে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঘৃণা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তিকে সরাসরি ভয়ঙ্কর অসুরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এটা ডিএমকের রাজনৈতিক সংস্কৃতির নমুনা।”

বিজেপি আরও দাবি করছে, যখনই ডিএমকে বা তার মিত্ররা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে হেঁটেছে, তখনই তামিলনাড়ুর ভোটাররা তার জবাব দিয়েছেন। তাই এ ধরনের মন্তব্য নির্বাচনে উল্টে ফল দিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ডিএমকের নীরবতা আরও বাড়াচ্ছে জল্পনাঃ
এই ঘটনার পরও ডিএমকে নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের মুখে দল এই মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছে। অন্যদিকে বিজেপি সুযোগ কাজে লাগিয়ে বারবার ইস্যুটি তুলে আনছে, যাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে একটি নতুন বিতর্ক তৈরি করা যায়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডিএমকে-র কিছু নেতার ব্যক্তিগত আক্রমণ অতীতেও বিজেপির হাতে ভাল ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ তৈরি করেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেকেই বলছেন, জয়বলনের মন্তব্য হয়তো ভোটের আগে ডিএমকের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে মোদির সফরের গুরুত্বঃ
তামিলনাড়ু দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক রাজ্য। সেখানকার নির্বাচনে বিজেপির প্রভাব ঐতিহ্যগতভাবে সীমিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় প্রকল্প, সাংস্কৃতিক সংযোগ ও নতুন জোট সমীকরণের মাধ্যমে বিজেপি তাদের ক্ষেত্র বাড়াতে চাইছে। মোদির এদিনের জনসভায়ও সেই সুরই ছিল স্পষ্ট।
ডিএমকে কেন্দ্রকে অভিযুক্ত করেছে যে, তামিলনাড়ুর উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ আটকে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই অভিযোগের জেরে মোদি ও স্ট্যালিন সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন ভোটের আগে আরও তীব্র হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই মোদিকে নরকাসুর বলা মন্তব্য শুধু বিতর্কই নয়, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।



