নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুধু বাংলা দখল করার লক্ষ্যে মোদী বাংলার ক্ষতি করলেন। কাজ করার ক্ষমতা নেই , সবকিছু কেন্দ্রীভূত করার জোতদারি আর জমিদারি। চারদিকে অক্সিজেন নেই। এদিকে মোদী মন কা বাত করে চলেছেন। ওনার মনের কথা কে শুনতে চায়? রবিবার মুর্শিদাবাদে ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। করোনার ব্যাপক সংক্রমণ কালে নির্বাচন কমিশন একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে বন্ধ করেছে সভা-মিছিল-মিটিং। এই বিষয়ে আগেও একাধিকবার কমিশনকে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বাঁচাতে হবে রাজধানীকে, সংক্রমণ ঠেকাতে আরও ১ সপ্তাহ লকডাউন দিল্লীতে
বাইরে থেকে লোক এসে বাংলায় ছড়াচ্ছে ভাইরাস এই নিয়েও সরব হয়েছেন একাধিক বার, আগেও বারবার বলেছেন বিজেপির নেতারা বাইরে থেকে লোক এনে রাজ্যের সংক্রমণ বাড়িয়েছে। আজকের সভা থেকেও সেকথা ফের বললেন তৃনমূল সুপ্রিমো। রাজ্যে এখনো বাকি ২ দফার নির্বাচন। তার আগে সমস্ত রকম জনসভা বাতিল করে জেলায় জেলায় গিয়ে প্রার্থীদের নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করছেন দলনেত্রী। আসানসোল, মালদার পরে আজ মুর্শিদাবাদে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন তিনি। শুরুতেই তিনি বলেছিলেন, ‘কমিশন আমার মিটিং নিষিদ্ধ করলেও আমি মুর্শিদাবাদেই পড়ে আছি। কলকাতা থেকেও ভার্চুয়াল মিটিং করতে পারতাম করিনি। বোলপুরে গিয়ে ভার্চুয়াল মিটিং করেছি। এখানেও নিজে এসেই বৈঠক করছি। তবে যে যে এলাকায় পৌঁছতে পারিনি, সেসব জায়গায় আমি ভোটের পর যাবই। আপনারা শুধু তৃণমূল প্রার্থীদের জেতান’
সেখান থেকেই গোটা দেশের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের উদাসীনতা নিয়ে একের পর এক তোপ দেগেছেন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। সঙ্গে তিনি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির জন্য আরও একবার বহিরাগত ইস্যুকে তুল ধরে বলেছেন, “প্ল্যান করে আট দফা ভোট করেছে। এক এক দফায় একরকম রিগিংয়ের পরিকল্পনা করেছে। অমিত শাহ দেশের যত কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল, তাদের তুলে নিয়েছে। আর যত ক্রিমিনাল ছিল তাদের সঙ্গে দিয়ে দিয়েছে। বিজেপি-র নেতা কর্মীদের সঙ্গে দিয়ে দিয়েছে।”
একই সঙ্গে দেশের ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সরবরাহ থেকে টিকা প্রদান সমস্ত বিষয় তুলে এনে কেন্দ্রকে তোপ দাগেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। আজকের মুর্শিদাবাদের ভার্চুয়াল সভা থেকে তিনি জানান, “এই করোনা পরিস্থিতিতে মোদী তো ভাষণ দিয়ে পালিয়ে গেল। এতদূর কোভিড বাড়ত না যদি টিকা টা গত ছ’মাসে দিয়ে দেওয়া হত। কিন্তু মোদী ৮০টা দেশকে বিনা পয়সায় পাঠিয়ে দিলেন। এদিকে দেশ জ্বলছে। দিল্লিতে গণচিতা জ্বলছে। উত্তরপ্রদেশে পাঁচিল তুলে দিয়েছে প্রশাসন। যাতে চিতার আগুন সাধারণ মানুষ দেখতে না পান। আর এরই মধ্যে নতুন আইন করা হয়েছে উত্তর প্রদেশে। কোর্টে যাওয়া যাবে না। যাকে খুশি গ্রেফতার করা যাবে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির এরকমই অবস্থা।”
তবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধ্বে কটাক্ষ করার পাশাপাশি করোনা কালে কেন্দ্রীয় বাহিনি এলে কিভাবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন, মুর্শিদাবাদের জনগণকে সেই বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, “কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়িতে এলে বলুন দূর থেকে কথা বলতে। কার কী আছে আপনি জানেন না। বাড়িতে এলে বলবেন এখন আমরা আউটসাইডারদের ঢুকতে দিচ্ছি না। তারপরও কিছু বললে মা-বোনোরা বলবেন ‘তােমাদের কোভিড আছে কি না দেখ, আগে চিকিৎসা করাও।”
শুধু বাংলা দখল করার লক্ষ্যে মোদী বাংলার ক্ষতি করলেন, ভার্চুয়াল বৈঠকে আক্ষেপ করেই এই কঠিন পরিস্থিতিতে সুস্থ ভাবে সকলে থাকতে বলে, ভার্চুয়াল বৈঠক থেকেই মুর্শিদাবাদের মানুষদের তিনি বার্তা দিয়েছেন, “মু্র্শিদাবাদ মালদা বড় ফ্যাক্টর আমার কাছে। আপনাদের এক একটা ভোট আমার সরকার গড়তে সাহায্য করবে।” সঙ্গে তিনি বলেন, ” আপনাদের বলব আমার এবার আমও চাই আমসত্ত্বও চাই। আর যেহেতু এবার কোভিড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাই আমের আচারও চাই।”



