অগ্নিবীরদের জন্য বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারের। অগ্নিপথ প্রকল্পে চার বছরের নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও এবার অতিরিক্ত দু’বছর সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবেন অগ্নিবীরদের বাকি ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ, চার বছরের পরিবর্তে মোট ছ’বছর পর্যন্ত পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হল। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কথা জানিয়ে এই ঘোষণা করেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমণি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দু’বছরের জন্য বাড়ানো হচ্ছে বেতনও। ছ’বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন অগ্নিবীররা। তবে সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও বাছাইপ্রক্রিয়া পেরোতে হবে।
চার বছরের বদলে ছ’বছর চাকরির সুযোগ
২০২২ সালে চালু হয়েছিল কেন্দ্রের অগ্নিপথ প্রকল্প। এই ব্যবস্থায় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনায় অগ্নিবীরদের চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়। চার বছরের মেয়াদ শেষ হলে প্রতিটি ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে নিয়মিত বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ ছিল। বাকি ৭৫ শতাংশকে পরিষেবা শেষ করে ফিরে যেতে হত।
এবার সেই ব্যবস্থাতেই বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। CDS জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমণি জানিয়েছেন, চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাকি ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে আরও দু’বছরের জন্য পরিষেবায় থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, যাঁরা প্রথম চার বছর পর নিয়মিত বাহিনীতে জায়গা পাবেন না, তাঁরাও আরও দু’বছর কাজের সুযোগ পাবেন।
প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ফলে যাঁদের চলতি বছরের শেষের দিকে পরিষেবা শেষ হওয়ার কথা ছিল, তাঁদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হল।
কত বাড়বে অগ্নিবীরদের বেতন?
চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত দু’বছরে বেতনও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন CDS। তাঁর ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত মেয়াদের প্রথম বছরে অগ্নিবীররা মাসে ৪৩,৫০০ টাকা পাবেন। দ্বিতীয় বছরে সেই অঙ্ক বেড়ে হবে ৪৭,০০০ টাকা।
অর্থাৎ, অতিরিক্ত দু’বছরের পরিষেবায় বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন অগ্নিবীররা। তবে বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত নিয়ম সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নির্দেশিকা অনুযায়ী জানা যাবে।
ছ’বছর পর কি স্থায়ী চাকরি পাবেন অগ্নিবীররা?
এই ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার নতুন সুযোগ। CDS জানিয়েছেন, অতিরিক্ত দু’বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অগ্নিবীরদের নিয়মিত বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। যাঁরা আগ্রহী, তাঁরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে পারবেন।
তবে ছ’বছর চাকরি করলেই স্থায়ী সেনাকর্মী হয়ে যাবেন, এমন নয়। নিয়মিত বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাছাই করা হবে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত দু’বছর পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ মিললেও স্থায়ী নিয়োগ নিশ্চিত নয়।
কেন এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র?
CDS-এর বক্তব্য, অগ্নিপথ প্রকল্প চালুর পর থেকে তিন বাহিনীই অগ্নিবীরদের কাজের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেছে। সেই মূল্যায়ন এবং বাহিনীগুলির প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। অস্ত্র পরিচালনার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ ধরনের সামরিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে প্রশিক্ষিত অগ্নিবীরদের আরও কিছুদিন বাহিনীতে ধরে রাখা হলে সেনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব।
অগ্নিবীর নিয়োগের পরীক্ষাতেও বদল
শুধু চাকরির মেয়াদ নয়, অগ্নিবীর নিয়োগের পরীক্ষাপদ্ধতিতেও পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় শারীরিক পরীক্ষার আগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতদিন যে ক্রমে পরীক্ষার ধাপগুলি হত, তার বদলে এবার প্রথমেই লিখিত পরীক্ষার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি পরিষেবা চলাকালীন অগ্নিবীররা যে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করবেন, তার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের স্কিল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। সেনায় কাজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্য পেশায় কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও এই শংসাপত্র সহায়ক হতে পারে।
প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের সামনে নতুন সুযোগ
২০২২ সালে অগ্নিপথ প্রকল্প চালুর পর প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় এগিয়ে আসছিল। তাঁদের মধ্যে ২৫ শতাংশকে নিয়মিত বাহিনীতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। বাকি ৭৫ শতাংশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল।
এবার কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তে সেই অগ্নিবীরদের সামনে আরও দু’বছর পরিষেবায় থাকার সুযোগ তৈরি হল। ফলে অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রমাণ করার আরও একটি সুযোগ পাবেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে অগ্নিপথ প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। চার বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে ছ’বছর করা, বেতন বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দেওয়ার নতুন সুযোগ—এই তিনটি সিদ্ধান্ত অগ্নিবীরদের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত যোগ্যতা, বাছাইয়ের নিয়ম এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নির্দেশিকার দিকেই এখন নজর থাকবে।



