কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচির ঘোষণা করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হতে চলেছে দীর্ঘমেয়াদি জনসংযোগ অভিযান। এবার রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার কারণে কর্মসূচির পরিধি আরও বড় করা হচ্ছে। ৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে জনসংযোগ, উন্নয়ন প্রচার এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের নেতৃত্বের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়-কে। ইতিমধ্যেই জেলার নেতৃত্বের কাছে বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।


দলের সার্কুলারে এবারের কর্মসূচির মূল বার্তা রাখা হয়েছে— ‘বিশ্বাসের, উন্নয়নের ও জনকল্যাণের বারো বছর’। সেই লক্ষ্যেই সাংসদ ও বিধায়কদের সরাসরি মানুষের মধ্যে গিয়ে সময় কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক সাংসদকে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় অন্তত একদিন করে প্রবাস করতে হবে। একইভাবে বিধায়কদেরও প্রতিটি মণ্ডলে একদিন করে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
শুধু সাংগঠনিক কর্মসূচিই নয়, জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় অন্তত ৫০০ বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র আহ্বান মেনে কারপুলিং, গণপরিবহণ ব্যবহার এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
৮ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলবে বিশেষ জনসংযোগ অভিযান। এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রী এবং দলীয় পদাধিকারীরা। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পরিদর্শন, ‘প্রগতি পথ যাত্রা’, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং স্বচ্ছতা অভিযানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


একইসঙ্গে প্রতিটি জেলায় তিন দিনের জন্য ‘মোদি সরকারের সাফল্য প্রদর্শনী’-র আয়োজন করা হবে। সেখানে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রদর্শনীর সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তনুজা চক্রবর্তী।
১২ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ব্লক স্তরে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর আয়োজন করা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য বিশেষ শিবির বসানো হবে। উপভোক্তাদের সেখানে নিয়ে আসার দায়িত্ব পালন করবে দলীয় সংগঠন। এই কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শাখারভ সরকার ও অভিজিৎ বিশ্বাসকে।
এছাড়া বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, আইনজীবী-সহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘প্রবুদ্ধ সম্মেলন’-এর আয়োজন করা হবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকেও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সাফল্য সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি করে তুলে ধরাই এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণে জুন মাসজুড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক প্রচার, জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মসূচি চলবে। ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক জেলা স্তরে প্রস্তুতি বৈঠক শুরু করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



