ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বয়স তখন ৪৫। তবুও কি তাঁকে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে? ফুটবলপ্রেমীদের মনে ঘুরপাক খাওয়া এই প্রশ্নেই নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান ফিটনেস, মানসিকতা এবং পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে ২০৩০ বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর খেলার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্বকাপের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। সেই আবহেই পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-কে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে আলোচনা। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে পর্তুগাল, স্পেন এবং মরক্কো। নিজের দেশের মাটিতে সেই বিশ্বকাপে রোনাল্ডো খেলবেন কি না, তা নিয়েই এখন ফুটবল মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।


একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে রবার্তো মার্টিনেজ বলেন, “রোনাল্ডো ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলতে পারে। এটা নিয়ে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই। নিজের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়েই সে এই বিশ্বাস তৈরি করেছে।” কোচের মতে, বয়স নয়, একজন ফুটবলারের মানসিকতা এবং শারীরিক প্রস্তুতিই শেষ কথা বলে।

রোনাল্ডোর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালের আগস্টে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের পর থেকে তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন। পর্তুগালের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এবং সর্বাধিক গোল করার নজির এখনও তাঁর দখলে।
শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দেশের ফুটবল ইতিহাসেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ২০১৬ সালে তাঁর নেতৃত্বেই UEFA Euro 2016 জেতে পর্তুগাল। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।


মার্টিনেজের মতে, রোনাল্ডোর সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর মানসিক শক্তি। কোচ বলেন, “অনেক ফুটবলার বড় সাফল্যের পর আত্মতুষ্ট হয়ে পড়ে। কিন্তু রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। এখনও ওর মধ্যে জেতার ক্ষুধা একই রকম রয়েছে। নিজের শরীর এবং ফিটনেস বজায় রাখতে যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই ও নিয়ম মেনে করে।”
এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপেও নজর থাকবে রোনাল্ডোর দিকে। একইসঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন লিওনেল মেসি-ও। দু’জনেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘস্থায়িত্বের নতুন নজির গড়ার পথে রয়েছেন। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোয়, তাহলে ২০৩০ বিশ্বকাপ শুধু আয়োজক দেশগুলির জন্য নয়, রোনাল্ডোর অবিশ্বাস্য কেরিয়ারের আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ও হয়ে উঠতে পারে।
ফুটবলে বয়সকে বারবার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন রোনাল্ডো। তাই ৪৫ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তার উত্তর ভবিষ্যৎ দেবে। তবে পর্তুগাল কোচের বক্তব্যে অন্তত এতটুকু স্পষ্ট— সেই সম্ভাবনাকে এখনই উড়িয়ে দিতে নারাজ পর্তুগাল শিবির।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



