সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপর হামলার ঘটনায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন অভিযুক্তের সঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র-র ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠতেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন লাভলি মৈত্র। একইসঙ্গে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
শনিবার সোনারপুরে জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই আকাশ গায়েন, কাজল, দেবাশিস এবং জয় সেনগুপ্ত-সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


তদন্ত সূত্রে দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের নাম সামনে আসে। এরপরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, অভিযুক্তদের মধ্যে কি তৃণমূলের কোনও ঘনিষ্ঠ মহলের যোগ রয়েছে?
এই অভিযোগের জবাবে লাভলি মৈত্র বলেন, “আমি বর্তমানে শহরের বাইরে রয়েছি। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা কেউ তৃণমূলের কর্মী নন। বিষয়টি নিয়ে দলের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি পাঠিয়েছি।” তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ধৃতদের সঙ্গে তাঁর বা দলের কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
তবে ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, একজন সাংসদের সফরের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল। তিনি জানতে চান, “এলাকায় সাংসদ আসছিলেন, সেখানে পুলিশ আগে থেকে উপস্থিত ছিল না কেন? হামলার সময় নিরাপত্তারক্ষীরা কোথায় ছিলেন?”


লাভলির দাবি, তিনি এলাকায় থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেন। একইসঙ্গে তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনাটি আদৌ স্বতঃস্ফূর্ত হামলা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত তদন্তকারী সংস্থার।
সোনারপুর হামলা-কাণ্ড এখন শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, তা ক্রমশ রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়, নিরাপত্তার গাফিলতি এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ— সবকিছু নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



