সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। ঘটনাটিকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছে তৃণমূল, তাই দলের নেতাদের সতর্ক থাকা উচিত।
শনিবার সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁর দিকে ইট, পাথর, ডিম এবং জুতো ছোড়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেও বিজেপি নেতৃত্ব তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, অভিষেককে হাসপাতালে ভর্তি করানোর বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, চিকিৎসকরা যখন জানিয়েছিলেন গুরুতর কোনও শারীরিক সমস্যা নেই, তখনও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বকে উদ্দেশ করে দিলীপের মন্তব্য, “মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাই বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া উচিত।” তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
এখানেই থামেননি দিলীপ ঘোষ। তিনি অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা-র কনভয়ের উপর হামলার ঘটনাকে যদি জনরোষ বলা হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমান ঘটনাকেও একইভাবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য একেক সময় একেক ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই হামলার পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা কেন ছিল না।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-ও এই ইস্যুতে তৃণমূলকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভই সামনে এসেছে এবং তৃণমূলের উচিত ঘটনাকে রাজনৈতিক রং না দেওয়া।
সোনারপুরের ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত। একদিকে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছে এটি জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। ফলে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
তদন্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি এখন নজর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার দিকেও। কারণ সোনারপুরের এই ঘটনা রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



