‘আমার মন্তব্যে তদন্ত হলে অমিত শাহের ক্ষেত্রে হবে না কেন?’ সিআইডি তদন্ত নিয়ে সোচ্চার অভিষেক

সিআইডির নতুন নোটিস, জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য ফাঁস এবং অমিত শাহের মন্তব্য নিয়ে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়; আইনের সমান প্রয়োগের দাবি তুলে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ ও নতুন নোটিস ঘিরে সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তদন্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চাইলেন, যদি তাঁর মন্তব্যের জন্য তদন্ত হতে পারে, তাহলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিতর্কিত মন্তব্যের ক্ষেত্রেও একই আইন কেন প্রযোজ্য হবে না? এই মন্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্যে।

সিআইডির সামনে হাজিরা দেওয়ার পর শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছেছিলেন এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তাঁর দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে তিনি কখনও কোনওরকম অনীহা দেখাননি। ইতিমধ্যেই ১৪ জুন আবার হাজিরার নোটিস পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। ওই দিন কলকাতাতেই থাকবেন এবং সিআইডির ডাকে সাড়া দিয়ে আবারও হাজির হবেন বলে স্পষ্ট করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

অভিষেক অভিযোগ করেন, শুক্রবার বিকেলে তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি বৈঠকে উপস্থিত থাকাকালীন সিআইডির একটি দল তাঁর বাড়িতে যায়। অফিসের কর্মীদের নোটিস গ্রহণ করতে বলা হলেও তা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।

ভবিষ্যতে তদন্তকারী সংস্থা বাড়িতে গেলে আগে থেকে ফোনে জানিয়ে দেওয়ারও অনুরোধ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তিনি কখনও তদন্ত এড়ানোর চেষ্টা করেননি এবং সবসময় আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়েছেন।

তদন্ত প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য সংবাদমাধ্যমে কীভাবে পৌঁছে যাচ্ছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, বাড়ি ফেরার আগেই কোন প্রশ্ন করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে, যা স্বাভাবিক নয়।

নতুন নোটিস প্রসঙ্গে তিনি জানান, একটি জনসভায় করা তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের প্রশ্ন, যদি তাঁর মন্তব্যের জন্য তদন্ত হয়, তাহলে অমিত শাহের অতীতের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, ভোটের আগে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোটের পরে মানুষ ভিন্ন বাস্তবতা দেখছে। উন্নয়নের পরিবর্তে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে জল্পনা-কল্পনা বা ভুল তথ্য প্রচার করবেন না। যদি ভুল তথ্য ছড়ানো চলতেই থাকে, তাহলে আমরা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।গুজবকে সত্য বলে প্রচার করবেন না। এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ আমাদের সমর্থন করেন। তৃণমূল কংগ্রেস এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেয়নি।

পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা দেন, ভয় দেখিয়ে বা প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করে দলের সংগঠন দুর্বল করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক লড়াই গণতান্ত্রিক পথেই চলবে বলেও মন্তব্য করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর