তৃণমূলের অন্দরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়কে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। শুক্রবার দলের তরফে এই পরিবর্তনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলের ভিতরে অসন্তোষ এবং মতভেদের আবহ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনছে দলীয় নেতৃত্ব।
মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর দায়িত্ব এতদিন সামলাচ্ছিলেন মালা রায়। তিনি শুধু সাংসদ নন, কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সম্প্রতি দলের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে।
দলের একাংশের অভিযোগ, দিল্লিতে এনডিএ-কে সমর্থন জানানো সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে যে গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে, মালা রায়কেও সেই শিবিরে দেখা গিয়েছে। এমনকি এনডিএ-সমর্থনের প্রস্তাবপত্রেও তিনি সই করেছিলেন বলে দাবি ওঠে।
মহিলা তৃণমূল সভানেত্রীর পদ খোয়ালেন মালা রায়, নতুন দায়িত্বে আলিফা আহমেদ

এই ঘটনার পরই তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে তাঁর সাংগঠনিক পদ নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু হয়। যদিও দলীয় সূত্রের দাবি, গত ৮ জুন মালা রায় নিজেই মহিলা তৃণমূল সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন।
শুক্রবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদকে নতুন সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চিঠি পাঠান। এরপর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
আলিফার নতুন দায়িত্বের খবর প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পোস্টের মাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও গত কয়েক বছরে দ্রুত উত্থান ঘটেছে আলিফা আহমেদের। ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ের পর দল তাঁর উপর আস্থা রাখে। সেই আস্থা বজায় রেখে সাম্প্রতিক নির্বাচনেও জয় তুলে আনেন তিনি।
দলের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতার কারণেই তাঁকে মহিলা তৃণমূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে আনা হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে ভিডিও বার্তায় আলিফা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি কালীগঞ্জের মানুষের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁদের সমর্থন ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না।
একই সঙ্গে দলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি ঐক্যের বার্তাও দিয়েছেন। আলিফার কথায়, কঠিন সময়ে সবাইকে একসঙ্গে থেকে দলের জন্য কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই মন্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন নিয়েও একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে।
তৃণমূলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্ত যে শুধুমাত্র পদবদল নয়, বরং দলের ভবিষ্যৎ রণকৌশলেরও অংশ— তা স্পষ্ট। মালা রায়ের বিদায়ের পর আলিফা আহমেদের হাতে মহিলা তৃণমূলের দায়িত্ব তুলে দিয়ে দল যে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনতে চাইছে, সেই ইঙ্গিতও মিলছে রাজনৈতিক মহলে।



