নজরবন্দি ব্যুরোঃ মমতার বিরুদ্ধে মীনাক্ষী, জোটের জট কাটিয়ে একা লড়বে সিপিআইএম। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিপুল ভোটে জয়ও পান তিনি। রাজ্যেও ফের ক্ষমতায় ফিরে আসে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারে দাঁড়িয়েছিলেন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে নিজের একদা শিষ্য শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। মারকাটারি লড়াইয়ের পর সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি।
আরও পড়ুনঃ ইয়াসের আবহের মধ্যেই রাজ্যে সংক্রমণ কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা ১৫০ এর বেশি।
এদিকে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভোটে হেরে মন্ত্রীপদে বসলে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচনে জিততে হয়। সেইমতো ঠিক হয় উপনির্বাচনে মমতা লড়বেন নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই। ফলে নিজের জয়লাভ করা বিধায়ক আসন ছাড়তে হয় রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রীপদে থাকতে গেলে তাঁকেও জিততে হবে নির্বাচনে। অন্যদিকে খরদহ কেন্দ্রে তৃণমূল বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও ফল প্রকাশের আগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহা। তাই ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। সেখানেই লড়বেন শোভনদেব।
মমতার বিরুদ্ধে মীনাক্ষী, হাইপ্রোফাইল নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছিল তাঁকে। বাজেয়াপ্ত হয় জামানত। কিন্তু সেই লড়াইয়ে প্রচারের লাইমলাইটে চলে আসেন বাম যুব নেত্রী। সূত্রের খবর আলিমুদ্দিনের অন্দরমহলে দাবি উঠেছে মমতার বিরুদ্ধে মীনাক্ষীকে প্রার্থী করা নিয়ে। অধিকাংশের দাবি প্রার্থী হোন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি মীনাক্ষীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। পাশাপাশি সূত্র জানাচ্ছে জোট ছাড়া এই নির্বাচন একাই লড়বে সিপিআইএম। উল্লেখ্য জোটস্বার্থে ‘২১ নির্বাচনে কংগ্রেসকে ভবানীপুর আসন ছেড়েছিল সিপিআইএম। এই কেন্দ্রেও জামানত বাজেয়াপ্ত হয় জোট প্রার্থীর। তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ৭৩ হাজার ৫০৫ টি ভোট পান, দ্বিতীয় হন বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি পান ৪৪ হাজার ৭৮৬ ভোট। সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী সহদেব খান পান ৫ হাজার ২১১ ভোট।
এদিকে রাজ্যসভায় তৃণমূলের দুই প্রাক্তন সাংসদ মানস ভুঁইয়া ও দীনেশ ত্রিবেদীর চেয়ার দুটি খালি রয়েছে। যার মধ্যে প্রথমজন এবারে নির্বাচনে জিতে মন্ত্রীসভায় ঠাই পেয়েছেন অন্যজন ভোটের ঠিক আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তাই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে হয়ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে বলে মনে করছিলেন অনেকে। কিন্তু তিনি নিজে রাজ্য রাজনীতিতেই থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তাই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁকে খরদহ থেকেই প্রার্থী করা হবে বলে জানা গেছে। রবিবারই তৃণমূল হাইকম্যান্ড থেকে তাঁর প্রার্থীপদ নিশ্চিত করে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে শোভনবাবু বলেন “দলের নির্দেশে নেত্রীর জন্যই ভবানীপুর থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। ফের দলই বলেছে, তাই খড়দহের উপনির্বাচনে লড়াই করব।”



