নজরবন্দি ব্যুরো: দেবাঞ্জনের যোগ-সাজোগে যুক্ত মিমির সহকারী? ভুয়ো টিকাকরণে মোড় ঘুরছে বেলায় বেলায়। একে একে উঠে আসছে নেতা মন্ত্রীদের সাথে যোগাযোগ। কখনো উঠে আসছে টিকা নিয়ে একাধিক চোখ কপালে ওঠা তথ্য। তার মধ্যেই বিস্ফোরক বক্তব্য রাখলেন বাম নেতা শতরুপ ঘোষ। তাঁর মতে মিমির সহকারীর সঙ্গে পুরনো যোগ আছে দেবাঞ্জনের।
আরও পড়ুনঃ ত্রিপুরায় মুকুল এফেক্ট! বিপ্লব দেবের ডাকা বৈঠকে গরহাজির বহু বিধায়ক
ভুয়ো ভ্যাকসিনেসন কলকাতায়, ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে একাধিক তথ্য। শুধু কসবা নয়, অন্য জায়গাতেও ভ্যাকসিনেসন ক্যাম্প করেছিলেন তিনি। তবে কি সবজায়গায় দেওয়া হয়েছে ভুয়ো টিকা। প্রশ্ন হাজারো। আর তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসছে আরও নানাবিধ প্রশ্ন। দেবাঞ্জনের অফিস, কাণ্ডকারখানা দেখে একপ্রকার চোখ কপালে উঠেছে সকলের। একে একে বেরিয়ে আসছে অদ্ভুত সব তথ্য। যাতে চক্ষু চড়কগাছ প্রশাসন থেকে আম জনতা।
সকলের চোখের সামনে দিনের পর দিন জালিয়াতি চালিয়ে গিয়েছেন দেবাঞ্জন দেব। ভুয়ো জালের শুরু আর শেষ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে সকলেই। আজ ভুয়ো টিকাকরণের তদন্তে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে এবং আজই তাঁদের তোলা হবে আদালতে।
ঘটনার তদন্তে সিট গঠন হয়েছে। ভুয়ো অফিসারের রাজডাঙার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে নবান্নর লেটারহেড এবং পুরসভার লেটারহেডে লেখা একাধিক চিঠি পাওয়া গিয়েছে। যেগুলিতে নিজেকে পুরসভার যুগ্ম কমিশনার হিসেবে নবান্নকে চিঠি লিখেছিলেন দেবাঞ্জন। তবে আর পাঠাননি কোন কারণে। উদ্ধার হয়েছে সেসব।
সঙ্গে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন জনকে। সূত্রের খবর যে তিনজনকে আজ গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা প্রত্যেকেই নানাভাবে দেবাঞ্জনের জালি কর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সুশান্ত দাস এবং রবিন শিকদার তাঁরাও দেবাঞ্জনের সঙ্গ দিতে নাম ভাঁড়িয়ে কাজ করতেন পুরসভার বিভিন্ন ক্ষেত্রে। অপরদিকে শান্তনু মান্না নিজেকে এতদিন পরিচয় দিয়েছেন ভুয়ো IAS অফিসার দেবাঞ্জনের ম্যানেজার সম্পর্কে।
তদন্তে উঠে এসেছে কলকাতার পুরসভার ঠিকাদারদের কাছে গিয়েও সব কনট্র্যাক্ট চাইতো দেবাঞ্জন। আর তাতেই রোজগার করতো প্রচুর টাকা। ইতিমধ্যেই তাঁর নামে টাকা জালিয়াতির একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বেহালার এক ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে দেবাঞ্জনের নামে দশ লাখ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন। পুরসভার স্টেডিয়াম তৈরির নামে ৯০ লাখ টাকার জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন কসবারই এক ব্যক্তি। তাঁর কসবার অফিসের জন্য পুরসভার নাম করে কমপক্ষে ১২ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল, বেতনও দেওয়া হতো তাঁদের। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সকলকে বসিয়ে।
সমগ্র ঘটনার তদন্তভার এই মুহুর্তে লালবাজারের হাতে। কসবা থানা থেকে তদন্তভার নেওয়ার পর থেকেই গতি নিয়ে চলছে তল্লাশি। সূত্রের খবর ভুয়ো টিকাকরণের জন্য দেবাঞ্জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা করতে চলেছে লালবাজার। আজই আলিপুর আদালতে ৩০৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হবে। লালবাজার কর্তৃপক্ষের দাবি যেভাবে টিকার নামে অজানা সলিউশন দেওয়া হয়েছে, তাতে মানুষের টিকা নিতে গিয়ে ভয়ংকর বিপদ হতে পারত। ভুয়ো ভ্যাকসিনের প্রতিক্রিয়ায় প্রাণ হারাতে পারতেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে গতকাল রাত থেকেই অসুস্থ অভিনেত্রী সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। শরীরে ডিহাইড্রেশন এবং রক্তচাপ কম তার। শরীরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ডাক্তার ডাকা হয়। কসবার বাম প্রার্থী সাংসদ অভিনেত্রীর সুস্থতা কামনা করলেও বিস্ফোরণ মন্তব্য করে বসেন তিনি। তাঁর মতে মিমির সহকারীর সঙ্গে পুরনো যোগাযোগ ছিল দেবাঞ্জনের।
নাহলে ওই ক্যাম্পে হঠাৎ করে মিমি বাকি জায়গা ছেড়ে ওখানেই টিকা নিতে গেলেন। দেবাঞ্জনের যোগ-সাজোগে যুক্ত মিমির সহকারী? শতরূপের বক্তব্য, “মিকি চক্রবর্ত্তী সেখানে গিয়েছিলেন কিভাবে, তাঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন কেউ, মিমি হয়তো এতক্ষণে জেনে গিয়েছেন তাঁর সহকারী দেবাঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত।” এর পরে শতরুপের হুমকি মিমি সামনে আনুক তাঁর সহকারীর নাম, নইলে তিনি বাধ্য হবেন নাম সামনে আনতে।



