ফের রক্তাক্ত ভূস্বর্গ। ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র ত্রিবেদীর কাশ্মীর সফর শেষেই ফের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাল পাকিস্তানি মদত পুষ্ট জঙ্গিরা। গতকালই কাশ্মীরে গিয়ে সন্ত্রাস দমনের বিষয়ে সেখানকার সেনা আধিকারিকদের সাথে বৈঠক করেছিলেন দেশের সেনাপ্রধান। এই নিয়ে টানা দুদিন জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলো কাশ্মীরে। সোমবার কাশ্মীরের রাজৌরীর সেনা ক্যাম্পে ভোররাতে গুলি চালায় জঙ্গিরা।

তাতে গুরুতর আহত হন এক জওয়ান। আর আজ মঙ্গলবার ভোর তিনটে নাগাদ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে কয়েকজন জঙ্গি। আর তাতেই বাধ সাধে ভারতীয় সেনা। শুরু হয় গুলির লড়াই। সেনা সূত্রে খবর জঙ্গিদের মধ্যে কেউ নিহত না হলেও এক সেনা জওয়ান আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি।



স্থানীয় মানুষজন মনে করছেন এর আগে জম্বুর এই এলাকাতে জঙ্গি কার্যকলাপ হত না। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই এলাকায় জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। সামনেই কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় চিন্তায় স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাম্মু-কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদি হামলা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কাশ্মীরের সন্ত্রাস নিয়ে সেনা অফিসারদের সাথে কথা বলেছেন।
টানা 2 দিন কাশ্মীরে হামলা জঙ্গিদের, আহত এক সেনা জওয়ান

কিন্তু কোনভাবেই জম্বু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা কমছে না। সেনা সূত্রে খবর, এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও সন্ত্রাসবাদীদের যুদ্ধে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তারা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই বছরের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত জঙ্গি হামলায় ১২ জন নিরাপত্তা রক্ষী সহ ১০ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে লোকসভার ভেতরেও ঝড় উঠেছে। বিরোধীরা কাশ্মীর সন্ত্রাস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করেছে বারবার। তাই কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সন্ত্রাসবাদি হামলা কেন্দ্রীয় সরকারের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।







