দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রচারের ময়দানে ফের আক্রমণাত্মক মমতা। উত্তরপাড়ার সভা থেকে সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ তুললেন, ভবানীপুরে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “ওরা যা খুশি করুক, আমার কিছুই যায় আসে না—কাঁচকলা করবে।”
সভামঞ্চ থেকে মমতার দাবি, নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোট ধীরগতির করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে না পারেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে বহিরাগতদের ঢোকানো হচ্ছে—যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।


প্রচারের খরচ ও পরিকাঠামো নিয়েও বিজেপিকে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “ওদের ৫০টা হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে, আর আমরা তিনটাও জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি।” এই মন্তব্যে ভোটের লড়াইয়ে অসম প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেন তিনি।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হন মমতা। পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়বে, কৃষকদের সমস্যা বাড়ছে, শ্রমিকদের কাজ নেই—এমন একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকদের ধর্মের নামে প্রভাবিত করে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ ও ‘বাঙালি-বিরোধী’ দল বলেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কথাও তুলে ধরে নিজের সরকারের কাজের পক্ষে সওয়াল করেন।


প্রসঙ্গত, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ। তার আগে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের এই বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার, এই প্রচারের ঝাঁজ ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।







