লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিতর্কে ফের বড় মোড়। যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করলেন ‘GOAT’ ট্যুরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। কোটি টাকার দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো ও হুমকির অভিযোগ তুলে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই এই পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির ইভেন্ট ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ৩৮ দিন জেলও খাটতে হয়েছিল ক্রীড়া উদ্যোগপতি শতদ্রু দত্তকে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এবার তিনি পাল্টা আইনি লড়াই শুরু করলেন।


শুধু অরূপ বিশ্বাস নন, অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি ও বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার, তৃণমূল নেত্রী জুঁই বিশ্বাস, আইএএস শান্তনু বসু-সহ একাধিক প্রভাবশালী নাম। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন শতদ্রু।
থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শতদ্রু দত্ত দাবি করেন, মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, “অরূপ বিশ্বাস জোর করে আমার কাছ থেকে ২০-২২ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন। পরে আরও প্রায় পাঁচ হাজার জনের জন্য অ্যাকসেস কার্ডের চাপ তৈরি করা হয়।”
শতদ্রুর আরও দাবি, অরূপ বিশ্বাসের আত্মীয় জুঁই বিশ্বাসও তাঁকে পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছিলেন মাঠে প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য। তিনি রাজি না হওয়ায় পরে মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে মেসির সঙ্গে ছবি তোলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


শতদ্রুর বক্তব্য অনুযায়ী, মেসির অনুষ্ঠানের নির্ধারিত শো-ফ্লোতে অরূপ বিশ্বাস বা তাঁর পরিবারের কারও থাকার কথা ছিল না। কিন্তু অতিরিক্ত লোক প্রবেশ করায় সাধারণ দর্শকদের বড় অংশ মেসিকে দেখতেই পাননি। এই ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এমনকী অ্যাকসেস কার্ড দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে “দেখে নেওয়ার” হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন শতদ্রু। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে আরও কয়েকজন আমলা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করতে পারেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মানহানির মামলা করার কথাও ঘোষণা করেছেন শতদ্রু দত্ত। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক FIR দায়ের হয়নি। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট জানিয়েছে, অভিযোগপত্র খতিয়ে দেখছেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
মেসিকে ঘিরে কলকাতার বহুল চর্চিত এই বিতর্ক এখন নতুন রাজনৈতিক ও আইনি মাত্রা পেল। অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলের।











