ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আবার কংগ্রেসে ফিরলেন রাজ্যসভার সাংসদ Mausam Benazir Noor। শনিবার দিল্লিতে Indian National Congress-এর কেন্দ্রীয় দপ্তরে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করেন তিনি। এর ফলে প্রয়াত Gani Khan Choudhury-র পরিবার ফের কংগ্রেসের ছাতার তলায় একজোট হল।
দিল্লিতে যোগদান, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফার ঘোষণা
দলে যোগ দিয়ে মৌসম বলেন, “কংগ্রেস পরিবার আমাকে গ্রহণ করায় ধন্যবাদ। কয়েক বছর তৃণমূলে কাজ করেছি, সুযোগ পেয়েছি। তবে পরিবারগত সিদ্ধান্তেই আমরা আবার একসঙ্গে কাজ করার পথে ফিরলাম।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই Mamata Banerjee-র কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে এবং সোমবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন।


‘মোহভঙ্গ নয়, পারিবারিক সিদ্ধান্ত’
তৃণমূল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মৌসম স্পষ্ট করেন, এটি কোনও মোহভঙ্গের ফল নয়। তাঁর কথায়, “সেক্যুলারিজম, ডেভেলপমেন্ট আর পিস—এই আদর্শ নিয়েই কংগ্রেস কাজ করে। যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই কাজ করব।” কংগ্রেসে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে তিনি পারিবারিক সিদ্ধান্ত বলেই ব্যাখ্যা করেন।
রাজনৈতিক যাত্রাপথ ও মোড়
২০০৯ ও ২০১৪—দু’বারই কংগ্রেসের টিকিটে মালদহ উত্তর থেকে লোকসভা জিতেছিলেন মৌসম। তবে ২০১৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ে পরাজিত হন তিনি। সেই ভোটে জয় পান বিজেপির খগেন মুর্মু। এরপর তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করে তৃণমূল। কিন্তু ২০২৪ লোকসভা বা ২০২১ বিধানসভা—কোনও নির্বাচনেই তাঁকে আর প্রার্থী করেনি দল।
গণিখান পরিবারের গুরুত্ব
মালদহের রাজনীতিতে গণিখান চৌধুরীর নাম আজও প্রভাবশালী। যদিও পরিবারের বাইরে বেরিয়ে মৌসম নিজস্ব সংগঠন গড়ে তুলতে বিশেষ সফল হননি বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। বর্তমানে পরিবারের আর এক সদস্য Isha Khan Choudhury কংগ্রেসের টিকিটে দক্ষিণ মালদহের সাংসদ। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই বাস্তবতাও মৌসমের প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।


কংগ্রেসে আশা, তৃণমূলে উদাসীনতা
মৌসমের ‘ঘর ওয়াপসি’-তে মালদহ জেলা কংগ্রেস নতুন উদ্দীপনার আশা দেখছে। তবে দলের অন্দরেই প্রশ্ন—এই যোগদানে আদৌ কতটা সাংগঠনিক লাভ হবে? অন্যদিকে All India Trinamool Congress এই দলত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেই জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
সব মিলিয়ে, মৌসম বেনজির নূরের কংগ্রেসে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়—মালদহের রাজনীতিতে এবং ছাব্বিশের আগে রাজ্য রাজনীতিতে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।







