নজরবন্দি ব্যুরোঃ সম্প্রতি তামিলনাড়ুকে ১৫ দিনের জন্য পাঁচ হাজার কিউসেক জল ছাড়তে কর্নাটককে নির্দেশ দিয়েছে কাবেরী জল বণ্টন পর্ষদ। আর তা নিয়ে কিন্তু বিতর্ক তুঙ্গে। শুক্রবার কর্নাটকে ১২ ঘন্টা বনধের ডাক দিয়েছে কন্নড়পন্থী কিছু গোষ্ঠী। যে কারণে আজ সরকারি, বেসরকারি অফিস থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া বিমানবন্দর থেকে দুপুর পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৪৪টি বিমান। জারি ১৪৪ ধারা।
আরও পড়ুনঃ হেনস্থা মামলায় বিচারপতি সিনহার স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে কুন্তল


কাবেরী নদীর জলবন্টনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ভারতের দুই রাজ্য কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্যেকার দ্বন্দ্ব অনেক কালের। চলতি বছর অগস্ট মাসে তামিলনাড়ু সরকার কর্নাটকের কাছে প্রতি দিন ২৪ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার জন্য আদালতে আর্জি জানায়। কর্নাটক সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, তামিলনাড়ুর কাবেরী উপত্যকায় পানীয় জলের সঙ্কট মেটাতে এবং চাষাবাদের সুবিধার্থে তারা কিছু পরিমাণ জল ছাড়তে প্রস্তুত। কিন্তু কর্নাটক যে পরিমাণ জল ছাড়ার কথা জানিয়েছিল, তাতে সন্তুষ্ট হয়নি তামিলনাড়ু।

সম্প্রতি তামিলনাড়ুকে ১৫ দিনের জন্য পাঁচ হাজার কিউসেক জল ছাড়তে কর্নাটককে নির্দেশ দিয়েছে কাবেরী জল বণ্টন পর্ষদ। কিন্তু তাতে অপত্তি রয়েছে কৃষক সংগঠনগুলির। কারণ, তাঁদের দাবি, কর্নাটকে জলের খুবই অভাব। সেক্ষেত্রে তামিলনাড়ুকে কাবেরীর জল দিলে প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ব্যবস্থায়। এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা অবধি বনধের ডাক দিয়েছিল কর্নাটকের কৃষক সংগঠন এবং কন্নড়পন্থী একাধিক গোষ্ঠী। সেই বনধে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় বেঙ্গালুরুর পথঘাট। তারপরস আজ আবার শুরু হয়েছে বনধ।



কাবেরীর জলবন্টন নিয়ে উত্তপ্ত বেঙ্গালুরু, জারি ১৪৪ ধারা, বাতিল বহু বিমান
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকেই কর্নাটকের একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। বাস, ট্যাক্সি থেকে শুরু করে বেসরকারি গাড়ি পরিষেবা সবই বন্ধ রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি দফতর থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ রয়েছে সমস্ত দোকান, মল, হোটেল, রেস্তরাঁ ও সিনেমা হল। তবে মেট্রো চলছে। খোলা রয়েছে ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানগুলো। পথে পথে স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে বনধ সমর্থকদের। বিভিন্ন সংগঠনের ৫০ জনেরও বেশি প্রতিবাদীকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ।








