মনীশ খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিকে তলব রাজ্যপালের!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: মনীশ খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিকে তলব রাজ্যপালের! রবিবার ভরা সন্ধ্যের সময় টিটাগড় থানার ১০০ মিটার দূরত্বতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন বিজেপি–র ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সদস্য মণীশ শুক্ল। প্রতিবাদে ১২ ঘন্টার বারাকপুর বনধ ডেকেছে বিজেপি। আর সোমবার এই গুলি চালোনা কান্ডের জেরে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে রাজভবনে তলব করেছেন।

আরও পড়ুনঃ করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পরে আবারও কি আক্রান্ত হতে পারে? গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অভিযোগ, নিহত গুলিবিদ্ধ বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লকে লক্ষ্য করে ১৩ থেকে ১৪ রাউন্ড গুলি করা হয়। এদিন রাতেই ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং–ঘনিষ্ঠ ওই বিজেপি নেতার মৃত্যু হয় বাইপাসের ধারে বেসরকরি এক হাসপাতালে। এদিন টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা জানিয়েছেন বিজেপি–র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্য বিজেপি–র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

কৈলাস বিজয়বর্গীয়র অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লকে টিটাগড় থানার সামনে গুলি করে খুন করেছে। পুলিশের ওপর তাঁদের আর কোনও বিশ্বাস নেই। কারণ, এর আগে সাংসদ অর্জুন সিং তাঁকে অভিযোগ করে জানিয়েছেন যে ব্যারাকপুরে তাঁর এবং তাঁর কর্মীদের জীবন নিয়ে সংশয় রয়েছে।এই খুনের ঘটনার প্রতিবাদে বারাকপুরে ১২ ঘণ্টা বনধ ডেকেছে বিজেপি। এখন সারা বারাকপুর জুড়ে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ সারাদিন বিভিন্ন কর্মসূচীতে দলের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিং, সাংসদ অর্জুন সিং এবং সাংসদ তথা রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁরা নেতৃত্ব দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা অনুযায়ী, রবিবার সন্ধে সাতটা নাগাদ টিটাগড় থানার উলটোদিকে বিজেপি কার্যালয় আসেন মণীশ। অন্যদিন তাঁর সঙ্গে কয়েকজন দেহরক্ষী থাকলেও, রবিবার কেউ ছিলেন না। পার্টি অফিসে ঢুকে তিনি চা আনতে বলেন কর্মীদের। সুযোগ বুঝে দুটি বাইকে বারাকপুরের দিক থেকে আসা চার জন দুষ্কৃতী সেখানে ঢোকে। মোটর সাইকেলে চেপে আসা দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে পর পর গুলি করে মণীশকে লক্ষ্য করে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর সঙ্গী গোবিন্দ। দুষ্কৃতীরা ফের বাইক নিয়ে শ্যামবাজারের দিকে চম্পট দেয়।

মনীশ খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই এলাকায় ভিড়ের মাঝে লুকিয়ে মণীশ শুক্লার ওপর নজর রাখছিলেন কয়েকজন। মাস্কের আড়ালে মুখ ঢাকা থাকায় কারও কোনও সন্দেহ হয়নি। মণীশ পার্টি অফিসে একা হতেই এই নজরদার রা সিংন্যাল পাঠায় দুষ্কৃতীদের। তারপরেই দুষ্কৃতীরা এসে গুলি করে মনীশ কে। পুলিশ গুলি সংগ্রহ করেছে, অনুমান নাইন এমএম পিস্তল বা কার্বাইন ব্যবহার করা হয়েছে। যা সাধারণত সুপারি কিলাররা ব্যবহার করে। তদন্ত চলছে, কেউ গ্রেফতার হলে তবেই জানা যাবে আসল ঘটনা।

এদিকে সাংসদ অর্জুন সিং আজ সকালে প্রশ্ন তোলেন, হত্যার ঘটনা ঘটলেই থানার সিসি ক্যামেরা খারাপ থাকে কেন! তাঁর কথায়, কার্বাইন বা নাইন এমএম পিস্তল পুলিশ ব্যাবহার করে! আসলে রক্ষকই ভক্ষক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন