নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপি বিরোধী ভোট পড়েছে ৬০ শতাংশ। তবুও ৬০ বিধানসভা আসন বিশিষ্ট ত্রিপুরায় ৩২ টি আসন পেয়ে চমক দিয়েছে বিজেপি। এক্সিট পোলের সঙ্গে এই ফল মিলে গেলেও বিজেপির এই জয়কে অপ্রত্যাশিত বলে দাবি করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। সংসদীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত যেমন চমকে দিয়েছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এখন হারের পর্যালোচনা করতে নেমে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বর্ষীয়ান বাম নেতা। কেন বিধানসভার প্রধান বিরোধী দলের তকমা হারাল সিপিএম? বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Mohammed Shami: টেস্ট হারতেই শামির শরণাপন্ন টিম ইন্ডিয়া, আহমেদাবাদে খেলবেন বাংলার পেসার


দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে রাজ্য সামলেছেন। কিন্তু ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিঃশব্দে তাঁকে গদিচ্যুত করে। পাঁচ বছর ধরে লাগাতার বিরোধী দলনেতার আসনে বসে দলকে চাঙ্গা করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। স্থানীয় নেতাদের পর্যালোচনায় বাম ও কংগ্রেসের ক্ষমতায়নের সমূহ সম্ভাবনা যেমন ছিল, তেমনই দলকে ক্ষমতায় ফেরানোর জন্য কম কসরত করেননি এই প্রবীণ নেতা।

সম্প্রতি সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের কাছে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রিপুরার ভোটের ফলাফল একেবারেই অপ্রত্যাশিত বলে দাবি করেন মানিক সরকার। বিজেপির এই ফল অভাবনীয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লুঠ হয়েছে বলেও মন্তব্য প্রাক্তন সিপি(আই)এম বিধায়কের।

এই নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে জোট বেঁধেছিল বাম এবং কংগ্রেস। সমঝোতার টেবিলে তিপ্রা মোথাকে স্বাগত জানালেও রাজি হননি মহারাজ প্রদ্যোত মাণিক্য দেববর্মা। পরে ফলাফলে বামেদের বিপর্যয় নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে বামেরা পেয়েছে ১১ টি আসন। হাত শিবিরের দখলে গেছে ৩ টি আসন। অন্যদিকে, ১৩ টি আসন পেয়ে ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দল এখন তিপ্রা মোথা।


প্রধান বিরোধী দলের তকমা হারাল সিপিএম, প্রথমবারেই চমক দিলি তিপ্রা মোথা

বিজেপি শাসনে রাজ্যে গণতন্ত্র হরণ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে সরব হয়েছিল বামেরা। সেটাকে হাতিয়ার করেই ৬০ শতাংশের বেশী ভোট পেয়েছে বিজেপি বিরোধী দলগুলি। তাহলে ভোট শতাংশে এগিয়ে থেকে কেন হারতে হল বিরোধীদের? এবিষয়ে মানিক সরকারের যুক্তি, বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ হয়েছে। মানিক নাম না করলেও অনেকেই মনে করছেন, তিপ্রা মোথাকেই এর জন্য দুষছে বামেরা। প্রথমবার ভোটে লড়ে ১৩ টি আসন জয়ের পর তাঁরাই এখন প্রধান বিরোধী দল। রাজনৈতিক বিশেষকদের মতে, তিপ্রা মোথার ভোট বাম-কংগ্রেস জোট শিবিরের অনুকুলে গেলে একাধিক আসনে পরাজিত হত বিজেপি। সেক্ষেত্রে তাঁদের দ্বিতীয়বারের ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা আগের থেকে কমে যেত।







