SIR: অভিষেকের আর্জিতে অনশন প্রত্যাহার, বড় আন্দোলনের ডাক দিলেন মমতাবালা ঠাকুর

এসআইআর নিয়ে মতুয়া উদ্বেগ চরমে; সোমবার দুপুরে অনশন তুলছেন মমতাবালা, সামনে আরও তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রাজনীতিতে এসআইআর-কে কেন্দ্র করে টানটান উত্তেজনার মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি জানালেন, সোমবার দুপুর ১২টায় অনশন প্রত্যাহার করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরবাড়িতে, যেখানে গত কয়েকদিন ধরে এসআইআরের প্রতিবাদে চলছিল আমরণ অনশন।

প্রথম থেকেই মতুয়া সমাজের বড় অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন যে, State Identification Register (SIR) চালু হলে বহু মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। এই আশঙ্কাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তপ্ত হয়ে উঠেছে বিতর্ক। এই এসআইআর বিতর্ক নিয়েই গত সপ্তাহে ঠাকুরবাড়ির বড়মার ঘরের সামনে অনশনে বসেন মমতাবালা ঠাকুর-সহ ২৫ জন মতুয়ার। বিশেষ কারণবশত একে একে ১৫ জন অনশন ভেঙে ফেললেও, মমতাবালা-সহ বাকি ১০ জন অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

SIR: অভিষেকের আর্জিতে অনশন প্রত্যাহার, বড় আন্দোলনের ডাক দিলেন মমতাবালা ঠাকুর

রবিবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতিতে বদল আসে। তৃণমূলের প্রতিনিধি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছয়। সেই চিঠির সম্মানেই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত—এ কথা স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন মমতাবালা। তাঁর দাবি, অনশন ওঠালেও লড়াই থামছে না। বরং এবার তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—এসআইআরের নামে কোনও অন্যায় হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।

SIR: অভিষেকের আর্জিতে অনশন প্রত্যাহার, বড় আন্দোলনের ডাক দিলেন মমতাবালা ঠাকুর
SIR: অভিষেকের আর্জিতে অনশন প্রত্যাহার, বড় আন্দোলনের ডাক দিলেন মমতাবালা ঠাকুর

মমতাবালা ঠাকুর বলেছেন, “আগামিকাল দুপুর বারোটায় অনশন তোলা হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠিকে সম্মান জানিয়েই সিদ্ধান্ত। কিন্তু লড়াই এখানেই শেষ নয়, এবার আমাদের বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার যে, মতুয়া সংগঠন এখন আরও সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে এগোতে চাইছে।

অন্যদিকে, এসআইআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে BJP-র মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। মতুয়া মহাসংঘের আরেক সংঘাধিপতি এবং বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরও প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, যদি এসআইআরের কারণে কারও নাম বাদ পড়ে, তবে তাঁদের নাগরিকত্ব দিতে CAA প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস মতুয়া সমাজের দুশ্চিন্তা কমাতে সফল হয়নি। বরং দিন যত এগোচ্ছে, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাঁদের ভোটে বাংলা ও বাংলার বাইরের একাধিক কেন্দ্রে বিজেপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল, সেই মতুয়াদের মধ্যে এই এসআইআর আতঙ্ক ভোটবাক্সে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত যেখানে CAA নিয়ে কেন্দ্র বহু প্রতিশ্রুতি দিলেও, কার্যকর হওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে মতুয়া সমাজের ক্ষোভ আগামী নির্বাচনে যে কোনও দলের জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি আন্দোলন বিরতি নয়—এটি রাজ্যের বড় রাজনৈতিক বার্তাও বটে। অভিষেকের আর্জিতে সাড়া দিলেও, মমতাবালার ঘোষণা জানিয়ে দিচ্ছে যে এসআইআর প্রসঙ্গে লড়াই আরও তীব্রতর হতে চলেছে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মতুয়া মহাসংঘ কী রূপরেখা দেয়, তা এখন নজরে রাজ্য রাজনীতির।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত