নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে, কিছুই কি নেই বাকি?’ সম্পর্কে জীর্ণতার ধুলো পরলে এই প্রশ্নই আসে। ‘মৃগয়া’র পর কেটে গেছে ৪৬ টা বছর। মৃণাল সেনের হাত ধরে মিঠুন ও মমতা শঙ্করের যে প্রেমের রসায়ন চোখে পরেছিল, তা আর বড়ো পর্দায় দেখা যায়নি। শুধু রঙ্গিন পর্দা নয়, বাস্তব জীবনেও মমতা মিঠুন যে জুটি হতে পারতেন তা কানা ঘোঁষা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তাঁরপর নদীতে বয়ে গেছে অনেক জল। মমতা- মিঠুনের পথও হয়েছে আলাদা। আসন্ন দেবের ছবি ‘প্রজাপতি’তে আবার সেই হারিয়ে যাওয়া জুটি একসঙ্গে। স্মৃতির পাতায় হাত বোলাতে গিয়ে পুরানো সম্পর্ক নিয়ে আবারও মুখ খুললেন মমতা?
আরও পড়ুনঃ নোরা বনাম জ্যাকলিন, জনসমক্ষে বলিউডের দুই সুন্দরির লড়াই
মৃগয়ার শুট্যিংয়ের পর ৪৭ বছর পরও মমতা জানালেন, মিঠুনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব অটুট। ব্যস্ত অভিনেতা তথা রাজনৈতিক নেতা হওয়া সত্ত্বেও যথেষ্ট যোগাযোগ আছে। মমতা শংকর জানান, মিঠুনের বোন ও মায়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়। কিন্তু মিঠুন মমতা সম্পর্কের তো অন্য পরিনতি হওয়ার কথা ছিল। বৈবাহিক জীবনে পা রাখার কথা ছিল মিঠুনের সঙ্গে তা নিয়ে কতটা আক্ষেপ হয় মমতা শংকরের? মমতা জানান, বিয়েটা না হওয়া বোধহয় ঈশ্বরের ইচ্ছে। বরং বিয়ে না হওয়াতেই তাঁর বর্তমান স্বামী চন্দ্রোদয়কে চিনতে বুঝতে সুবিধা হয়েছে। তাই জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে এই তিন বিধানের ওপর তাঁর অগাধ ভরসা। তাঁর জন্য চন্দ্রোদয় একেবারে সঠিক মানুষ, মিঠুনকে দেখেই তিনি বুঝেছিলেন।

মমতা শঙ্কর আরও জানান, সেই সম্পর্ক পরিনতি পেলএ হয়তো আজকের মমতা শঙ্করের সাফল্য দেখতে পেতেন না দর্শক। মিঠুনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকলেও, নিজের বিবাহিত স্ত্রীকে কখনই সিনেমার মঞ্চে দেখতে চাননি। ঠিক একই ভাবে মিঠুনের বিবাহিত স্ত্রী যোগীতাকেও কখনও আর দেখা যায়নি পর্দায়। নিজের উজ্জ্বল ভবিষত ছেড়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেননি মমতা শঙ্কর। তাই অপুর্ন স্বপ্ন নিয়ে আক্ষেপ নেই তাঁর।
মিঠুনের সঙ্গে বিয়ে হলে আর সিনেমা করা হত না, মৃগয়ার স্মৃতি উসকে বললেন মমতা শঙ্কর

আসন্ন ক্রিস্টমাসের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘প্রজাপতি’। ২৩ ডিসেম্বর বড় পর্দায় আসছে ছবি। এই ছবিতে প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন দেব এবং ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য। আবার ৪৬ বছর পর পর্দায় মুখোমুখি ‘মৃগয়া’র মমতা মিঠুন জুটি। আসলে রাতের সব তারাই থাকে দিনের আলোর গভীরে।



