নজরবন্দি ব্যুরোঃ ঘেরাও কোন অর্থে বেআইনি? প্রশ্ন তুলে CRPF মন্তব্যে কমিশনকে জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম থেকেই এ বিষয়ে প্রথম অনড় তিনি। বারবার বলে এসেছেন যা তিনি বলেছেন তাতে ভূল কিছুউই নেই, গত ২৮ মার্চ এবং ৭ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিল কমিশন, ২৮ ঘন্টার মধ্যে অর্থাত আজকের মধ্যেই বলা হয়েছিল জবাব দিতে। আজ তারই জবাব দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আরও পড়ুনঃ শীতলকুচিতে কেন গুলি চালাতে হল জওয়ানদের ? ব্যাখ্যা দিল বাহিনী


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই সরব। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চাপে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাংলার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।তৃণমূল ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বাহিনী।গত ৭ এপ্রিল কোচবিহার উত্তরের সভায় তৃণমূল নেত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট প্রভাবিত করতে এলে তার পালটা দেওয়ার পরামর্শ দেন মহিলা ভোটারদের। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা অশান্তি করতে এলে একদল ওদের ঘিরে ফেলুন। আরেক দল ভোট দিতে যান। কারা এই কাজ করছে, তাদের নাম লিখে রাখুন।”

গতকাল তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছিলো। গতকাল বর্ধমানের সভা থেকে তিনি জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করেন তিনি, কিন্তু তারা কাজ করছে বিজেপির হয়ে। আর বাহিনী অন্য দলের হয়ে কাজ করলে তিনি বলবেনই। আজও জবাবে সেকথাই জানানলেন তিনি। শো কজেরউত্তর দিলেন মমতা। উত্তরে তিনি লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সশস্ত্র আধা সামরিক বাহিনীর প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। দেশের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় তাদের যা অবদান, তাকে আমি শ্রদ্ধা এবং প্রশংসা করি। ‘ তবে তার পরেই লিখেছেন , গত ৬ এপ্রিল তৃতীয় দফার ভোটের দিন তারকেশ্বরের রামনগরে এক নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। পুলিশে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছেও এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিযোগ জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তার পরেও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন কোনও ব্যবস্থা তো নেয়ইনি, এমন কি, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কোনও নির্দেশিকাও জারি করা হয়নি।
ঘেরাও কোন অর্থে বেআইনি? প্রশ্ন তুলে CRPF মন্তব্যে কমিশনকে জবাব মমতার। এছাড়াও আরও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন জবাব পত্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, একটি নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিন দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৬, ১৮ এবং ১৩৪টি অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। কিন্তু হাতেগোণা কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড়া কোনও অধিকাংশ অভিযোগেরই সুরাহা হয়নি। অথচ বিজেপি-র করা অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা সহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশের বহু পদাধিকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের ,মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি কেবল মহিলাদের বলেছেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ করতে। যদি তাঁদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সিএপিএফ জওয়ান সমস্যা তৈরি করেন, তবে তাঁদের ঘেরাও করার কথা বলেছেন। ঘেরাও কোন অর্থে বেআইনি, সে প্রশ্নও তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।









