নজরবন্দি ব্যুরোঃ “তৃণমূলকে সমর্থন করুন অতীতের কথা ভেবে”, সিঙ্গুর থেকে রবীন্দ্রনাথকে স্পষ্ট বার্তা মমতার। তৃণমূলের টিকিট পাননি। বরং সেখান থেকে দল প্রার্থী করেছেন তাঁরই বিরোধী বলে পরিচিত বেচারাম মান্নাকে। তাই ক্ষোভে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন সিঙ্গুরের ‘মাষ্টারমশাই’ রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুনঃ “মারার হুমকি দিচ্ছে অনুব্রত”, নিরাপত্তা চেয়ে মোদীকে চিঠি দিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য।


যোগদানের ৬ দিনের মাথায় বিজেপির হয়ে সিঙ্গুরের টিকিট পান তিনি। এত কিছুর পরেও সিঙ্গুরের জনসভা থেকে রবীন্দ্রনাথকে তৃণমূলকে সমর্থনের আবেদন রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে সিঙ্গুরে বড় শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা। নিজের বক্তব্যে সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। কীভাবে তিনি টানা অনশন করেছিলেন, পালসিট থেকে সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এসে কীভাবে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছিল, সেগুলি তুলে ধরেন তিনি। সেই সঙ্গে মমতা বলেন, ” মাস্টারমশাইয়ের প্রচুর বয়স হয়েছে। এই বয়সে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। আপনি সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। আর আমার আবেদন আপনি এখানে অতীতের কথা ভেবে তৃণমূলকে সমর্থন করুন।”
একুশের নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী বারবার কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন। সেখানে সিঙ্গুর যে তাঁর কাছে ভালো বিজ্ঞাপন নয়, সেটা জানেন তৃণমূল নেত্রী। তাই নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরে তিনি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার কথা বলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ” আমরা এখানে আগে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি করব। তারপর বড় শিল্পের পরিকল্পনা আছে। আমি আগে যা বলেছি ইস্তাহারে, তার চেয়ে বেশি কাজ করেছি। এখানেও শিল্প হবে। বেকারদের কর্মসংস্থান হবে।” উল্লেখ্য সম্প্রতিককালে তৃণমূল ত্যাগীদের গদ্দার, মীরজাফর বিশেষণে আক্রমণ করছেন মমতা। সেখানে সিঙ্গুরে এসে তিনি কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে নিশানা করেননি। উল্টে তিনি তৃণমূলকে সমর্থন যাতে করেন, সেই আবেদন জানিয়েছেন।
“তৃণমূলকে সমর্থন করুন অতীতের কথা ভেবে”, সিঙ্গুর থেকে রবীন্দ্রনাথকে স্পষ্ট বার্তা মমতার। এখন ২১ এর নির্বাচনে সিঙ্গুর কি ফের তাঁকে দুহাত ভরিয়ে দেবে তা সময়ই বলবে। তবে ভোটের আগে তাঁর রবীন্দ্রনাথের প্রতি বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনইতিক মহল।


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



