নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুকে বিঁধে পুরনো সেনাপতি মুকুলের প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুকে বিঁধে পুরনো সেনাপতি মুকুলের প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। মমতার রাজনৈতিক কেরিয়ারে দীর্ঘদিন ছিলেন সেনাপতি। দল ছাড়লেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তাঁর মুখে খুব একটা কড়া কথা শোনা যায়নি কখনো। এবার নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুকে বিঁধে ‘স্নেহের’ সেই মুকুলের প্রশংসা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়।

আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রাম ছেড়ে সিঙ্গুরে আজ মমতার প্রচার, অন্যদিকে বিজেপির প্রচারে নাড্ডা-ইরানি।

তিনি বলেন ”শুভেন্দুর মতো এত খারাপ নয় মুকুল।” শুভেন্দুকে আক্রমনের সাথে সাথেই তৃণমূলের এককালের সেকেন্ড ইন কমান্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে “মুকুলকে কেন কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে” বলে আক্ষেপও শোনা গেল তাঁর মুখে। নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়ার জনসভা থেকে প্রথমে মমতা বিজেপি-র প্রার্থী তালিকা নিয়ে ‘বিভ্রাট’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। দুই প্রাক্তন সৈনিকের তুলনা টেনে তিনি বলেন, ”মুকুল বেচারা থাকে কাঁচরাপাড়া। ব্যারাকপুর, জগদ্দল, ভাটপাড়া, এটা ওর নিজের এলাকা। ওকে পাঠিয়ে দিয়েছে কৃষ্ণনগর।” এর পরই তাঁর সহাস্য মন্তব্য, ”মুকুল শুভেন্দুর মতো এত খারাপ নয়। অন্তত এটা আমি বলব।” এর পরই অবশ্য মুকুল এবং শুভেন্দুকে একাসনে বসিয়ে তাঁর মন্তব্য, ”ওরা যখন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তখন এটা ওদের ব্যাপার। ওরা অন্য রাজনৈতিক দল করে।”

পাশাপাশি দু’জনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মমতার বার্তা, ”ওরা ভাল থাকুক, সুখে থাকুক। আমার কিছু যায় আসে না।” মঙ্গলবার অন্যান্য দলত্যাগীদেরও মমতার প্রচ্ছন্ন বার্তা, ”যারা দল ছেড়ে গেছে, তাদের ফেরানো হবে না। অনেকে লাইন দিয়ে আছে। অন্তত ১৫ টি কেসের খবর আমার কাছে আছে। আমি বলেছি লাইনে দাঁড়াও। নির্বাচনে তুমি কাজ করেছ কি না দেখব। স্থানীয়দের সার্টিফিকেট নেব, তার পর।” নির্বাচনের আগে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেসজ্ঞ মহল। প্রসঙ্গত ২০০১ সালে তিনি বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন মুকুল। তবে হারের মুখ দেখতে হয় তাঁকে। যদিও, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখে কৃষ্ণনগর উত্তর আসনটি ‘নিরাপদ’। লোকসভা ভোটে ওই বিধানসভা কেন্দ্রটিতে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল সাড়ে ৫৩ হাজার। ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়

নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুকে বিঁধে পুরনো সেনাপতি মুকুলের প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। ৩ বছর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন মুকুল। তারপর একে একে বহু নেতার মত শুভেন্দুও আসেন বিজেপিতে। এমন অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য কি দলে ফেরার জন্য মুকুল কে ইঙ্গিত দিলেন তিনি? রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন