সন্দেশখালির ঘটনায় বিগত কয়েক মাস ধরেই উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। এখনও নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাদের কর্তৃক জমি-ভেড়ি দখলের তদন্ত করছে সিবিআই। কলকাতা হাই কোর্টে চলছে মামলা। মাঝে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র। ইতিমধ্যেই জেলে গিয়েছেন দাপুটে নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীরা। এরই মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনল তৃণমূল।
আরও পড়ুন: মাস্টারমাইন্ড শুভেন্দু! সন্দেশখালিতে ধর্ষণের ঘটনা সাজানো? বিজেপির নেতার ভিডিও ভাইরাল


সন্দেশখালির ঘটনায় নারী নির্যাতন অত্যন্ত গুরুতর একটি অভিযোগ। এমনকি মহিলারা ধর্ষণের অভিযোগ আনেন শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। সন্দেশখালি ইস্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধীদের লাগাতার কটাক্ষে বিদ্ধ তৃণমূল। এবার তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপিকে বিপাকে ফেললেন।
ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। সেই ভিডিও-তে (ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) দেখা যাচ্ছে, সন্দেশখালি ২ ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি গঙ্গাধর কয়াল বলছেন, সন্দেশখালিতে ধর্ষণের ঘটনা পরিকল্পনামাফিক সাজানো হয়েছে এবং তা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর কথা মতো! ধর্ষণের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে ‘মিথ্যে’ প্রচার চালিয়েছে বিজেপি বলে সরব তৃণমূল।



ভিডিয়োতে আরও দেখা গিয়েছে গঙ্গাধরকে একজন প্রশ্ন করছেন, ‘‘দাদা, তোমরা কী লেভেলের কাজ করেছ, বুঝতে পারছ! ধর্ষণ হয় নাই, তাকে ধর্ষণ বলে চালিয়েছ! তোমার বাড়ির বৌকে দিয়ে এই কাজ করাতে পারতে? আমরা তো পারব না। কী ভাবে ‘ব্রেনওয়াশ’ করলেন?’’
জবাবে গঙ্গাধর বলেন, ‘‘শুভেন্দুদার নির্দেশেই আমরা এই কাজ করেছি। উনি আমাদের সাহায্য করেছেন। শুভেন্দুদা বলেছেন, এটা না করলে, তাবড় তাবড় লোকদের গ্রেফতার করানো যাবে না। আমরাও ওখানে দাঁড়াতে পারব না।’’

আগেই বলেছিলাম এটা বিজেপির তৈরি নাটক, সন্দেশখালির ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে মমতা
এই ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে সামাজিম মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,সন্দেশখালির এই স্টিং অপারেশন প্রমাণ করে যে, বিজেপি আসলে কতটা নোংরা এবং ঘৃণ্য একটি দল। বাংলার প্রগতিশীল ভাবধারা ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির প্রতি আঘাত হানতে, বাংলা-বিরোধীরা আমাদের রাজ্যের সম্মানহানি করার জন্য ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “ভারতের ইতিহাসে এর আগে কখনও দিল্লির কোনো শাসক দল, স্রেফ প্রতিহিংসার বশে একটি গোটা রাজ্য এবং সেই রাজ্যের জনগণকে অপমান করার এইরকম চেষ্টা করেনি। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে কীভাবে দিল্লির ষড়যন্ত্রমূলক শাসনের বিরুদ্ধে বাংলা গর্জে উঠবে এবং তাদের বিসর্জন নিশ্চিত করবে।”







