ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা এখনও থামেনি। সেই প্রসঙ্গেই সরাসরি মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগরে দলীয় জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “সবকটাকে গ্রেফতার করেছি! এটা বাংলা—উত্তরপ্রদেশ নয়।” ঘটনার পর তিন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিন গীতাপাঠ ইস্যুতেও কড়া সুরে প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে গীতাপাঠ নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার পর তিনি বলেন, “গীতাপাঠ আমরা সবাই করি। তার জন্য পাবলিক মিটিং করার কী আছে?” তাঁর বক্তব্য—ধর্মাচারণ ব্যক্তিগত, তা রাজনৈতিক প্রদর্শনের বিষয় হওয়া উচিত নয়।
এদিনের সভা থেকে ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়েও পরিষ্কার অবস্থান জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। যতবার দরকার, ততবার বলব—বাংলায় এ ধরনের ব্যবস্থা চলবে না।”

নদিয়ার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ মাঠে দলের জনসভায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ার ডুমুরজলা হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে করে কৃষ্ণনগরে এসে প্রথমে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সরকারি প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করে একাধিক নির্দেশও দেন।
সভা মঞ্চ থেকে ‘রাস্তাশ্রী’ এবং ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ধাপে রাজ্যের ২৩টি জেলায় ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা তৈরি হবে বলে জানান তিনি। এতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি ১০০ দিনের প্রকল্পে বহু মানুষ কাজ পাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
তবে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকাকে কেন্দ্র করে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “আদালতের নির্দেশ পেয়েও ছ’মাস ঘুমিয়ে ছিল কেন্দ্র। এখন হঠাৎ নোটিস পাঠিয়ে টাকা বন্ধ করেছে। ভাল কাজ করলেও বাংলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্য চাইলে নিজেদের অর্থে প্রকল্প চালিয়ে নিতে পারবে—“আমরা ভিক্ষা চাই না।”
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। আধার ব্যবহারের নিয়মকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ব্যাঙ্কে আধার বাধ্যতামূলক, প্যান-এ আধার প্রয়োজন। কিন্তু ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্ব নির্ধারণে আধার চলবে না? বিজেপির তাঁবেদারির জন্য আধার কার্ড চলবে? ইয়েস স্যার!”
নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে মমতা বলেন, “বিজেপির আইটি সেলের তৈরি করা তালিকা দিয়ে ভোট করাবেন? যা ইচ্ছে করুন, কিছু করতে পারবেন না।”
এসআইআর নিয়ে বিজেপি সব রকম চেষ্টা করলেও ফল মিলবে না বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিহার পারেনি, বাংলা পারবে!” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর পরামর্শ , বিএসএফের ধারেকাছে যাবেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক চোখে দুর্যোধন, অপর চোখে দুঃশাসন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
কৃষ্ণনগরের এই সভা থেকে বিরোধিতার নতুন সুর ছুঁড়ে দিয়ে দলীয় কর্মীদের প্রতি বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী—জনস্বার্থে কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে।







