‘অপেক্ষা করুন, অপেক্ষায় ফল মেলে’—আন্দোলনের মাঝেই আশা কর্মীদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বকেয়া ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের মধ্যেই সিঙ্গুরের সভা থেকে আশা কর্মীদের ‘অপেক্ষা করুন’ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বকেয়া বেতন, ভাতা বৃদ্ধি ও একাধিক দাবিতে টানা আন্দোলনে উত্তাল রাজ্য। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে মাসের পর মাস ধরনা থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পথ অবরোধ—আশা কর্মীদের ক্ষোভ ক্রমশ চরমে। সেই আবহেই সিঙ্গুরের সভামঞ্চ থেকে আন্দোলনরত আশা ও অঙ্গনওয়ারি কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা—“অপেক্ষা করুন। অপেক্ষায় ফল মেলে।”

গত কয়েক মাস ধরে বকেয়া মজুরি, ভাতা বৃদ্ধি এবং কর্মপরিস্থিতি সংক্রান্ত দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন আশা কর্মীরা। কলকাতার পাশাপাশি জেলায় জেলায় ছড়িয়েছে আন্দোলনের আঁচ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত রফাসূত্র মেলেনি। একই সঙ্গে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন অঙ্গনওয়ারি কর্মীরাও। এই প্রেক্ষিতেই সিঙ্গুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আশা ও আইসিডিএস কর্মীদের জন্য কয়েক মাস আগেই ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। স্মার্টফোন কেনার জন্য তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা অনেক কাজ করেন। আমি তাঁদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। তবে বলব—অপেক্ষা করুন, অপেক্ষায় ফল মেলে।”

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময়েই রাজ্যের নানা প্রান্তে ফের আন্দোলনে নেমেছেন আশা কর্মীরা। হুগলির খানাকুলে পথ অবরোধে সামিল হন তাঁরা। খানাকুল থানার পুলিশ অবরোধ তুলতে চেষ্টা করলেও দীর্ঘক্ষণ রাস্তা আটকে থাকে। একই ছবি পুরুলিয়াতেও। কর্মবিরতির মধ্যেই পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে জেলার ২০টি ব্লক থেকে কয়েকশো আশা কর্মী বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন।

পুরুলিয়ায় AIUTUC জেলা কমিটির ডাকে আয়োজিত ওই মিছিলে ৮ দফা দাবি তোলা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে—নূন্যতম মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা, ভাতা ও উৎসাহ ভাতা সহ সমস্ত বকেয়া মেটানো এবং কর্মরত অবস্থায় মৃত আশা কর্মীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, আশ্বাস নয়, তাঁরা চাইছেন লিখিত ও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত।

সব মিলিয়ে একদিকে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের চাপ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘অপেক্ষা’-র বার্তা—এই দুইয়ের সংঘাতে আশা কর্মীদের আন্দোলন কোন পথে এগোবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত