‘বোনেদের পর এবার ভাইয়েরা’— যুবসাথীতে নগদ ভাতা, ভোটের আগে উচ্ছ্বসিত রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম

মাধ্যমিক পাশ ২১–৪০ বছরের কর্মহীনদের জন্য যুবসাথী ভাতা, ৫,০০০ কোটি বরাদ্দ। এপ্রিল থেকে টাকা ঢোকার আশ্বাসে শিবিরে ভিড়, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের বছর ঘনিয়ে আসতেই আরেক দফা নগদ সহায়তার বার্তা। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ মহিলাদের পর এ বার ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে কর্মহীন তরুণ-তরুণীদের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিতে ময়দানে নেমেছে নবান্ন। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য ঘোষিত এই প্রকল্পে ৫,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দ—এবং এপ্রিল থেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরুর আশ্বাস। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, বান্দোয়ান থেকে বিনপুর—শিবিরে দীর্ঘ লাইন দেখে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট: তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি ছুঁতে চাইছে তৃণমূল।

রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘যুবসাথী’ কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে। তবে আবেদন শিবির শুরু হতেই ভিড় এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই অনলাইন পোর্টাল খুলতে বাধ্য হয় প্রশাসন। সূত্রের খবর, একটানা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত এই ভাতা মিলতে পারে। তবে আবেদনকারী চাকরি পেলে প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হবে।

কারা পাবেন, কারা পাবেন না?

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরাও এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন—অর্থাৎ পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ না পাওয়া যুবক-যুবতীদেরও এই আর্থিক সুরক্ষা।

ঘোষণার টাইমিং, রাজনৈতিক পাঠ

প্রথমে ১৫ অগস্ট থেকে প্রকল্প শুরুর কথা জানানো হয়েছিল। পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারিতেই শিবির এবং এপ্রিল থেকে অর্থপ্রদান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নারী ভোটে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর প্রভাবের পর এ বার তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করেই যুবসাথী। লাইনের প্রথম দু’দিনে পুরুষের উপস্থিতি বেশি—এই ছবিও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন শিবির চলবে, আর ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-ভিত্তিক চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ—এই সময়সীমা ঘিরেও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।

বিরোধীদের কটাক্ষ, তৃণমূলের পাল্টা

বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল কটাক্ষ করে বলেছেন, ভাতার লাইনে ভিড় পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থানের করুণ ছবি। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর প্রশ্ন, “ডবল-ডবল চাকরি হলে লাইনে কারা?” পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “নোটবন্দি বা এসআইআরের লাইনের সঙ্গে যুবসাথীর লাইন এক নয়—এখানে যুবক-যুবতীরা স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ বছরের শাসনের পর স্বাভাবিক স্থিতাবস্থা-বিরোধিতার চাপ নিয়েই ২০২৬-এর লড়াইয়ে নামতে হবে তৃণমূলকে। সেই প্রেক্ষিতে যুবসাথী শুধুই সামাজিক সুরক্ষা নয়, একটি কৌশলগত পদক্ষেপও—এমন ব্যাখ্যাও শোনা যাচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত