বাংলার আকাশে নিম্নচাপের মেঘ কিছুটা হালকা হলেও ঘনীভূত হচ্ছে দুর্যোগের মেঘ। তার কারণ পড়শিরাজ্য ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে। সেখানকার জলাধার থেকে ব্যাপক পরিমাণে জল ছাড়া হচ্ছে। যার ফলে চাপ বাড়ছে বাংলার বেশ কিছু জেলায়। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সপ্তাহ জুড়েই পশ্চিমবঙ্গ এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যে চলছে অবিরাম বৃষ্টি। যার ফলেই জলাধার গুলি থেকে ছাড়া হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে জল। ইতি মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের পাঞ্চেত জলাধার থেকে ১ লক্ষ্য ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এই জল সকাল থেকেই আসতে শুরু করেছে দুর্গাপুর ব্যাড়েজে। যার ফলে দুর্গাপুর ব্যাড়েজ থেকেও ধাপে ধাপে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে ১ লক্ষ্য কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। তাই দামোদর তীরবর্তী যে সমস্ত এলাকা যেমন বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলী এবং হাওড়া রয়েছে সেগুলির বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যেই বানভাসী হয়েছে।


তাই রাজ্যের দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলেন। রবিবার সমাজ মাধ্যমে বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “আমি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জির সাথে কথা বলেছি এবং তার সাথে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি তার সাথে তেনুঘাট থেকে আকস্মিক এবং বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি, যা ইতিমধ্যেই বাংলায় বন্যা শুরু করেছে। আমি তাকে বলেছিলাম যে ঝাড়খণ্ডের জল বাংলাকে প্লাবিত করছে, এবং এটি মানবসৃষ্ট! আমি তাকে অনুরোধ করলাম, দয়া করে এই বিষয়ে যত্ন নিন।”
এছাড়াও রাজ্যের দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সমস্ত জেলাশাসকদের সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়টিও তিনি সমাজ মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি ইতিমধ্যে রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সমস্ত ডিএম-এর সাথে কথা বলেছি। আমি ডিএমদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেছি এবং আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে বিপর্যয় পরিস্থিতির যথাযথ যত্ন নিতে বলেছি। কোথাও যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



