নজরবন্দি ব্যুরোঃ পলিটিক্যাল ফাইটে ভরসা দিতে ববির বাড়িতে নবান্ন ফিরতি ‘দিদি’, নারদ কান্ডে সোমবার থেকে জেল হেফাজতে আছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর সঙ্গে আছেন মমতা সরকারের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং প্রাক্তন বিধায়ক শোভন চট্টোপাধায়। যেদিন তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ,সেদিনই নিজাম প্যালেসে প্রায় ঘন্টা ছয়েকের ধর্ণা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ নারদ-নাটক থেকে ভোট-পরের হিংসার বুমের্যাং, বাংলায় ছন্নছাড়া অভিভাবকহীন বিজেপি


আজও সাংবাদিক বৈঠকের সময় বুঝিয়েছিলেন ফিরহাদের এভাবে হেফাজতে থাকায় ক্ষতি হচ্ছে কোভিডের কাজের, ‘‘কলকাতার মেয়র, যে সারাদিন কাজ করে বেড়ায়, সারাক্ষণ ফিল্ডে থেকে কাজ করে, সে গ্রেফতার হওয়ায় ৪ দিন ধরে কলকাতায় ভ্যাকসিনের কাজ, পরিষ্কারের কাজ আমরা অন্য ভাবে করছি। কিন্তু এক জনের বিকল্প আর এক জন হয় না।’’ সোমবার জামিন স্থগিত করে প্রেসিডেন্সিতে নিয়ে যাওয়ার সময়েও এই প্রসঙ্গেই কেঁদে ফেলেছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী।
কান্না ভেজা গলায় বলেছিলেন, আমার হাতে দায়িত্ব ছিল কলকাতার কোভিড মোকাবিলার। পারলাম না মানুষগুলোর জন্য কাজ করতে। আজ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরব হয়েছিলেন তাঁর মন্ত্রী বিধায়কদের গ্রেপ্তারি নিয়ে। বলেছিলেন একদিন সব ঠিক বিচার পাবে। সেই সঙ্গেই ফিরহাদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এক জন রাজনীতিবিদ এবং সরকারের তরফে বলছি, ববি অনেক কাজ করে। ছেলেটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালেও অংশ নিয়েছে।’’



প্রসঙ্গত আজই তাঁর বাবার প্রথম কোভিড নেওয়া নিয়ে ট্যুইট করেছেন ফিরহাদ কন্যা সাবা। এর আগেও কন্যা প্রিয়দর্শিনী বলেছিলেন এই বেআইনি গ্রেপ্তারে কোভিড মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়লো বাংলা। আজ কন্যা সাবা ট্যুইটে লিখেছেন, ‘আমার বাবা ফিরহাদ হাকিম কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে প্রথম স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। এটা ঝুঁকির হতে পারত বলে সেই সময়ে অনেকে বাবাকে বলেছিলেন। কিন্তু বাবা বলেছিলেন, আমি এই অতিমারির বিরুদ্ধে লড়তে যা যা সম্ভব সব করতে প্রস্তুত। আর সেই লক্ষ্যেই বাংলায় করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে প্রথম স্বেচ্ছাসেবী হয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। বাবা এমন এক জন মানুষ যিনি সব সময় নিজের কথা না ভেবে কী করলে অপরের উপকার হবে তা নিয়ে চিন্তা করেন’ সঙ্গে ‘বেঙ্গলস্ট্যান্ডউইথববি’ হ্যাসট্যাগও ব্যবহার করেন তিনি।
পলিটিক্যাল ফাইটে ভরসা দিতে ববির বাড়িতে নবান্ন ফিরতি ‘দিদি’, ববির কন্যারা ভেঙে পড়ায় আজ বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে ফেরার পথে চেতলায় ববির বাড়িতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মুহুর্তে ফিরহাদের স্ত্রী গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সিতে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে, বড়ো মেয়ে প্রিয়দর্শিনীও ছিলেন না, গিয়েছিলেন আইনজীবীর কাছে, বাড়ির দরজা থেকেই মেজো মেয়ে সাবাকে ভরসা জুগিয়ে এসেছেন মমতা। বলেছেন এটা পলিটিক্যাল ফাইট, মনের জোর আর ভরসা রাখ, সঙ্গে ভরসা জুগিয়ে বলে এসেছেন, ‘আমি আছি।’







